শহিদুল ইসলাম খোকন
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৯:৫৩ পিএম
দেশীয় শিল্পায়ন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের অগ্রদূত, ক্রীড়াঙ্গনের পাশাপাশি শিল্পখাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এস এম নজরুল ইসলামের
আজ ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী ।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তাঁর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এ উপলক্ষে ওয়ালটন গ্রুপের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০১৭ সালের এই দিনে ৯৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন এই শিল্পদ্রষ্টা। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর কর্মময় জীবনের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আলহাজ্ব এস এম নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন দূরদর্শী উদ্যোক্তা ও পরিশ্রমী ব্যবসায়ী। কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও আত্মনির্ভরতার যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করে গেছেন, তা আজও দেশের নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকরণীয়।
জানা যায়, ব্যবসায়িক জীবনের শুরুতে তিনি তাঁর পিতা এস এম আতাহার আলী তালুকদারের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও স্বাধীনতার পর নিজ উদ্যোগে আলাদাভাবে ব্যবসা শুরু করেন। সীমিত সামর্থ্য ও কঠোর পরিশ্রমকে পুঁজি করে ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন সফল শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে।
দেশের ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, হোম ও কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স এবং ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদন শিল্পে তিনি ছিলেন এক অগ্রপথিক। আমদানিনির্ভর বাজারে দেশীয় পণ্য উৎপাদনের সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি “মেইড ইন বাংলাদেশ” ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে আলহাজ্ব এস এম নজরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন রেজভী অ্যান্ড ব্রাদার্স, যা সংক্ষেপে ‘আরবি গ্রুপ’ নামে পরিচিতি পায়। সময়ের ধারাবাহিকতায় সেই প্রতিষ্ঠানই পরবর্তীতে রূপ নেয় দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী—ওয়ালটন গ্রুপে।
২০০৮ সালে গাজীপুরের চন্দ্রায় নিজস্ব কারখানায় ওয়ালটন পণ্যের উৎপাদন শুরু হয়, যা দেশের শিল্পখাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
আজ তাঁর প্রতিষ্ঠিত ওয়ালটন গ্রুপ শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়—এটি হয়ে উঠেছে দেশীয় প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জাতীয় অর্থনীতিতে অবদানের এক শক্তিশালী প্রতীক। হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান, দেশীয় প্রযুক্তি বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড পরিচিতির পেছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
মৃত্যুর আট বছর পেরিয়ে গেলেও আলহাজ্ব এস এম নজরুল ইসলামের আদর্শ, কর্মদর্শন ও দেশপ্রেম আজও ওয়ালটন পরিবারসহ অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে অনুপ্রেরণা হয়ে বেঁচে আছে।
দেশের শিল্পায়ন ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাতৃভূমির খবর