প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় নেশা ও জুয়া খেলার জন্য টাকা না পেয়ে নিজেদের বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। আগুনে পরিবারের বসবাসের ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দুই ভাই পলাতক রয়েছেন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়নের সবুজবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা হলেন ওই এলাকার নাসির বেপারীর ছেলে সোহান বেপারী ও ইমরান বেপারী।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নেশা ও জুয়া খেলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব কাজে অর্থের প্রয়োজন হলে তারা নিয়মিত বাবা-মায়ের কাছে টাকা চাইতেন। টাকা দিতে না পারলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মারধর এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটাতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, কিছুদিন আগে দুই ভাইকে দেওয়ার জন্য তাদের বাবা ৩০ হাজার টাকা ঋণ করেছিলেন। সেই অর্থও তারা নেশা ও জুয়া খেলায় খরচ করে ফেলেন। পরে ওই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পরিবারের পক্ষ থেকে আর্থিক চাপ সামলাতে হয়।
এরপর শুক্রবার আবারও বাবার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই অর্থ না দিলে বসতঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বাবা-মা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুই ভাই নিজেদের থাকার ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ।
আগুন লাগার খবর পেয়ে নড়িয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। পরে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই আগুনের ব্যাপকতায় বসতঘরটি পুড়ে যায়। এতে পরিবারের স্বাভাবিক বসবাসের জায়গাটি নষ্ট হয়ে গেছে।
পরিবারের বড় ছেলে আলআমিন অভিযোগ করে বলেন, তার দুই ছোট ভাই দীর্ঘদিন ধরে নেশার জন্য বাবা-মায়ের কাছে টাকা দাবি করে আসছেন। টাকা না পেলেই তারা পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং বাড়িঘরে ভাঙচুর চালান। এর আগে ঋণ করে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও তারা সেই অর্থ নেশা ও জুয়ায় ব্যয় করেছেন। এবার আবারও ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। সেই অর্থ না দেওয়ায় ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান।
ঘটনার পর অভিযুক্ত দুই ভাই বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ায় এলাকায় তাদের নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। পরিবারের সদস্যরা তাদের এমন আচরণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে নেশা ও জুয়ার কারণে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া অশান্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম খান ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নেশার অর্থ না পেয়ে নিজেদের বসতঘরে আগুন দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। মাদকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
স্থানীয়দের মতে, মাদক ও জুয়ার আসক্তি শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পরিবার ও সমাজেও পড়ে। অর্থের জন্য পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি, সহিংসতা এবং সম্পদের ক্ষতির মতো ঘটনাও এর পরিণতি হতে পারে। নড়িয়ার এই ঘটনাটি আবারও মাদক ও জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
এদিকে আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরটি পুনর্নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষা রয়েছে।



