রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

র্সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধাকে মারধর করে বের করে দিলো বিএনপি নেতাকর্মীরা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম

র্সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জুলাই যোদ্ধাকে মারধর  করে বের করে দিলো বিএনপি নেতাকর্মীরা

সংগৃহীত

শরীয়তপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা এক জুলাই যোদ্ধা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক সাবেক নেতাকে লাঞ্ছিত ও মারধর করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বিএনপির দাবি, সেখানে কেবল বাকবিতণ্ডা হয়েছিল, কোনো ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেনি।

বুধবার সকালে শরীয়তপুর পৌরসভা মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে অনুষ্ঠানস্থলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। অভিযোগ রয়েছে, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরের উপস্থিতিতে জুলাই যোদ্ধা জাকির হোসেন মিন্টু (আদর) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজিরকে ধাক্কাধাক্কি করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

জাকির হোসেন মিন্টু অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠান শুরুর আগ থেকেই কয়েকজন ব্যক্তি জুলাই যোদ্ধাদের পরিচয় ও আন্দোলনে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন। পরে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করলে তাকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয় এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। এতে তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন বলেও দাবি করেন।

অপরদিকে ইমরান আল নাজির বলেন, জেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে তারা হামলার শিকার হয়েছেন। তার অভিযোগ, কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী তাদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন এবং অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি।

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু মাদবর। তিনি বলেন, কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়। মারধরের অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তানভির হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, তার জানা মতে অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠান চলাকালে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয় তার নজরে আসেনি। তবে অনুষ্ঠানের আগে বা বাইরে কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে সেটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পর প্রয়োজনীয় বক্তব্য দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!