রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল: ইসি আনোয়ারুল ইসলাম

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম

চলতি মাসেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল: ইসি আনোয়ারুল ইসলাম

ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তবে দেশের সব ইউনিয়নে একসঙ্গে ভোট না নিয়ে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে চলছে। কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তফসিল ঘোষণার আগে বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে ভোটের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার পর্যায়ের ভোট আয়োজন শুরু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের বিপুলসংখ্যক ইউনিয়নে একই সময়ে নির্বাচন আয়োজন করলে প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। এ কারণে ব্যয় সাশ্রয় এবং ব্যবস্থাপনা সহজ রাখতে ধাপে ধাপে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

আচরণবিধি চূড়ান্ত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আচরণবিধির খসড়া প্রণয়নের কাজ শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, চূড়ান্ত হওয়া আচরণবিধি শিগগিরই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কার্যকর করা কয়েকটি বিধান স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়েছে।

তফসিল ঘোষণার আগে ভোটকেন্দ্র, কর্মকর্তা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রস্তুতিও সমন্বয় করা হচ্ছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং কেন্দ্র নির্ধারণের কাজ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ভোট গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের প্রস্তুতির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা মাথায় রেখে ভোটের সময়

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার বিষয়টিও বিশেষভাবে বিবেচনা করছে নির্বাচন কমিশন। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা, বৃত্তি পরীক্ষা, পরীক্ষামূলক পরীক্ষা এবং অন্যান্য মূল্যায়ন কার্যক্রম থাকে। একই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ভোটকেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

এ ছাড়া ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ শিক্ষক। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা এবং নির্বাচন একই সময়ে হলে উভয় কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে পরীক্ষার সময় এড়িয়ে ভোটের দিন নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে কমিশন। পরীক্ষার আগে অথবা পরে সুবিধাজনক সময়ে ভোট আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

তবে এখনো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। কমিশনার জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট সব বিষয় পর্যালোচনা শেষে যথাসময়ে বিস্তারিত সময়সূচি জানানো হবে।

ভোটকেন্দ্রে বাড়বে নজরদারি

নির্বাচনকে আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরে সংযুক্ত ধারণযন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো এবং আকাশপথে পর্যবেক্ষণের জন্য উড়োজাহাজবিহীন যন্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ধারণা, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি দ্রুত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। কোথাও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে সেখানে পাঠানোর ক্ষেত্রেও প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া যাবে।

এ ছাড়া নির্বাচন ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিশন। ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সব প্রস্তুতি শেষে চলতি মাসের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে—এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বাস্তব পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!