রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশের ইলিশ চায় ভারত, সরকারের কাছে আবেদন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম

দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশের ইলিশ চায় ভারত, সরকারের কাছে আবেদন

ছবি: সংগৃহীত

দুর্গাপূজা সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে আবারও নিয়মিত রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের মৎস্য আমদানিকারকেরা। এ বিষয়ে কলকাতাভিত্তিক একটি মৎস্য আমদানিকারক সংগঠন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে। তাদের দাবি, বাংলাদেশের ইলিশের জন্য পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

চিঠিতে ভারতীয় আমদানিকারকেরা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের ইলিশ বাণিজ্যের কথা তুলে ধরেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সাল থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ এবং আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ত্রিপুরায় বাংলাদেশি ইলিশ আমদানি হয়ে আসছে। দুই দেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে এই বাণিজ্য দীর্ঘদিনের পরিচিত সম্পর্ক তৈরি করেছে।

আমদানিকারকেরা আরও উল্লেখ করেছেন, ২০১২ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ ইলিশ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এরপর কয়েক দফায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য বাংলাদেশের কাছে আবেদন করা হলেও তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে। পরে ২০১৯ সাল থেকে দুর্গাপূজা উপলক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমিত পরিমাণে ইলিশ রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দেওয়া শুরু হয়। তবে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মতে, স্বল্প সময়ের এই অনুমোদন তাদের নিয়মিত বাণিজ্যের জন্য যথেষ্ট নয়।

চিঠিতে দুই বাংলার ভাষা, খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আসাম ও ত্রিপুরাতেও বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে বলে দাবি করেছেন আমদানিকারকেরা। দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ইলিশের চাহিদা আরও বেড়ে যাওয়ায় এবার দ্রুত রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার জন্য তারা বাংলাদেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে বাংলাদেশেও ইলিশ রপ্তানি নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। দুর্গাপূজার আগে ভারতের বাজারে ইলিশ পাঠানোর অনুমতি চেয়ে দেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠান সরকারের কাছে আবেদন করেছে। এসব আবেদনের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশের অভ্যন্তরে ইলিশের সরবরাহ ও চাহিদা পরিস্থিতি যাচাই করতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে। অর্থাৎ রপ্তানির পরিমাণ ও অনুমতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের বাজারে ইলিশের প্রাপ্যতা বিবেচনা করা হচ্ছে।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ২ হাজার ৪২০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছর অনুমোদিত পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২০০ টন। তবে অনুমোদনের পুরো পরিমাণ শেষ পর্যন্ত রপ্তানি হয় কি না, সেটি আলাদা বিষয়।

ভারতীয় আমদানিকারকদের নতুন আবেদন তাই কেবল উৎসবকেন্দ্রিক চাহিদার বিষয় নয়, দুই দেশের দীর্ঘদিনের ইলিশ বাণিজ্য ও সীমান্তভিত্তিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গেও যুক্ত। এখন বাংলাদেশের বাজারে ইলিশের সরবরাহ, দেশের ভোক্তাদের চাহিদা এবং রপ্তানির সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!