প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ১০:২৩ পিএম
সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ ও দখলে রাখার সুযোগ রেখে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। নতুন বিধানের আওতায় নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষিত থাকবে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
বিলের বিধান অনুযায়ী, বাবা-মা, পিতামহ বা মাতামহ তাদের সন্তান কিংবা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করলে দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। একইভাবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও এমনভাবে সম্পত্তি দানের সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ সম্পত্তির মালিকানা দান করা হলেও দাতার জীবদ্দশায় তার ভোগের অধিকার বহাল রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
নতুন বিধানে আরও বলা হয়েছে, দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় সম্পত্তি গ্রহণকারী মারা গেলে ওই সম্পত্তির ভোগাধিকার বহাল থাকবে। একই সঙ্গে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সম্পত্তিটি গ্রহীতার বৈধ ওয়ারিশদের কাছে হস্তান্তরিত হবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তর ও দানের বিভিন্ন পদ্ধতির বিধান রয়েছে। তবে দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট বিধান ছিল না। নতুন বিধানের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দানের এই পদ্ধতি সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র ব্যবস্থা হিসেবে কার্যকর হবে। এটি সব ধর্মের মানুষের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে। প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা, অছিয়ত কিংবা আইনস্বীকৃত অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতির ওপর এই বিধানের কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও তিনি জানান।
তবে বিলটির বিরোধিতা করেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তাদের দাবি, প্রস্তাবিত বিধানের কিছু অংশ ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এ নিয়ে সংসদে আপত্তি তুলে তারা বিলটির পক্ষে ভোটে অংশ নেননি।
শফিকুর রহমান বলেন, সম্পত্তি সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধান ও মূলনীতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রচলিত ধর্মীয় নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিধান আইন হিসেবে রাখা হবে কি না।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে এমন কোনো ব্যবস্থা করা হচ্ছে না, যা হেবা, অছিয়ত বা অন্য কোনো স্বীকৃত সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতিকে প্রভাবিত করবে। তার ভাষ্য, মূলত অসহায় ও বয়স্ক বাবা-মায়ের জীবদ্দশায় তাদের সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিধান আনা হয়েছে।
বিলের ওপর ভোট গ্রহণের সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এরপর স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
নতুন এই বিধান কার্যকর হলে সন্তান বা নাতি-নাতনির নামে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগ করার আইনি সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে দানগ্রহীতার অকালমৃত্যুর ক্ষেত্রে সম্পত্তির উত্তরাধিকার কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়েও বিধানে কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।



