প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতের সাবেক সংসদ সদস্য প্রজ্বল রেভান্নার কাছে কারাগারে পাওয়া মুঠোফোনের তথ্য নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জব্দ করা ওই মুঠোফোনে বিপুলসংখ্যক অশ্লীল ভিডিও পাওয়া গেছে। নিষিদ্ধ অবস্থায় কারাগারের ভেতরে মুঠোফোন কীভাবে পৌঁছাল এবং সেটি ব্যবহারের সুযোগ কে করে দিয়েছিল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।
বেঙ্গালুরুর পরাপ্পানা অগ্রহারা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন প্রজ্বল। গত ১১ আগস্ট কেন্দ্রীয় অপরাধ শাখার কর্মকর্তারা কারাগারের নিরাপত্তাবেষ্টিত একটি এলাকায় আকস্মিক তল্লাশি চালান। সে সময় একটি মুঠোফোন, চার্জার, কলমের মতো দেখতে একটি বৈদ্যুতিক সংরক্ষণযন্ত্র এবং নোটবই জব্দ করা হয়। পরবর্তী সময়ে জব্দ করা মুঠোফোন ও অন্যান্য সামগ্রী ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে মুঠোফোনের ভেতরের তথ্য পরীক্ষা করা হলে সেখানে একাধিক অশ্লীল ভিডিও থাকার বিষয়টি সামনে আসে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিডিওর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেলেও তদন্তকারীদের পক্ষ থেকে একাধিক অশ্লীল ভিডিও থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মুঠোফোনটিতে বিভিন্ন যোগাযোগ ও বিনোদনমূলক ব্যবস্থার ব্যবহারও ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
কারাগারের ভেতরে এমন একটি মুঠোফোন পাওয়া যাওয়ায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ কারাগারে বন্দিদের ব্যক্তিগত মুঠোফোন ও যোগাযোগের সরঞ্জাম ব্যবহার নিষিদ্ধ। অনুমোদিত যোগাযোগের জন্য নির্ধারিত ও নজরদারির আওতায় থাকা ব্যবস্থাই ব্যবহারের নিয়ম।
মুঠোফোন উদ্ধারের পর কারাগারের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে কারাগারের ভেতরে নিষিদ্ধ সামগ্রী প্রবেশের পথ খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়। সাম্প্রতিক তদন্তে কারাগারে মুঠোফোন ও সংযোগের উপকরণ সরবরাহের অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে কারাগারের একজন কর্মীও রয়েছেন।
এ ঘটনায় প্রজ্বল রেভান্না ও তার সঙ্গে থাকা আরেক বন্দিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতেও নেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, মুঠোফোনটি কারাগারের ভেতরে কীভাবে প্রবেশ করল, কার মাধ্যমে সেটি পাওয়া গেল এবং কারাগারের ভেতরে এর মাধ্যমে কী ধরনের যোগাযোগ করা হয়েছিল।
প্রজ্বল রেভান্না ভারতের জনতা দল-সেক্যুলারের সাবেক সংসদ সদস্য। ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি বর্তমানে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন। তার বিরুদ্ধে করা মামলায় এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের পাশাপাশি যৌন নির্যাতন ও অন্যান্য গুরুতর অভিযোগও উঠে আসে। ২০২৫ সালের আগস্টে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
কারাগারে থাকা অবস্থায় নিষিদ্ধ মুঠোফোন ব্যবহারের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তার বিরুদ্ধে নতুন করে আইনি ও প্রশাসনিক তদন্ত জোরদার হয়েছে। একই সঙ্গে কারাগারে বন্দিদের কাছে নিষিদ্ধ সামগ্রী পৌঁছানোর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য এখন কারাগারের নিরাপত্তাব্যবস্থার ফাঁকফোকর চিহ্নিত করা এবং নিষিদ্ধ মুঠোফোনটি কীভাবে সেখানে পৌঁছেছে, তার পুরো বিষয়টি উদঘাটন করা। এ ঘটনায় আরও কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।



