প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা মেঘমল্লার বসুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ার পর তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হওয়ায় লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে মেঘমল্লার বসুকে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগ থেকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। ওই রাতেই তার জন্য লাইফ সাপোর্টের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে।
এর আগে সোমবার মধ্যরাতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মেঘমল্লার বসুকে উদ্ধার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আত্মহানির ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা প্রকাশের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী তার অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। পরে তাকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একটি ফটকের কাছে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ জানান, মেঘমল্লার বসুর প্রকাশ করা বার্তাটি দেখে তারা তার খোঁজ শুরু করেন। পরে তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে চিকিৎসা নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রেখে নিবিড় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। মঙ্গলবার অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
ঘটনার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা বার্তায় মেঘমল্লার বসু নিজের মানসিক কষ্ট, জীবন নিয়ে হতাশা এবং ব্যক্তিগত অপরাধবোধের কথা উল্লেখ করেছিলেন বলে জানা গেছে। সেখানে তিনি স্বজন, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে বিভিন্ন কথা লেখেন এবং মায়ের প্রতি অনুতাপ প্রকাশ করেন। ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়ও তার বার্তায় উঠে আসে।
তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মেঘমল্লার বসুর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, শিক্ষার্থী, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই তার দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের মধ্যেও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
এদিকে এমন পরিস্থিতিতে মানসিক সংকটে থাকা ব্যক্তিদের একা না রেখে তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং দ্রুত পরিবার, বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা পেশাদার সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করার গুরুত্বও সামনে এসেছে। মেঘমল্লার বসুর চিকিৎসা পরিস্থিতি বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।



