প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ড. হুমায়ুন কবির। তিনি জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি।
শনিবার সকালে সিলেট নগরের একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে এ সফর হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য ও সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ হয়নি। পারস্পরিক স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়েই প্রধানমন্ত্রী সেখানে অংশ নেবেন। অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য ‘মক্কা চুক্তি’-তে যোগদানের প্রসঙ্গেও কথা বলেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং দেশের দক্ষ সেনাবাহিনী রয়েছে। বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে পারলে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
এ বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় যেখানে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া প্রয়োজন, সেখানে দেশ যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে অনেক দেশই একাধিক নিরাপত্তা জোটের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। তাই কোনো একটি জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অবস্থান তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, দেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে। অর্থাৎ বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে কোনো চাপের কারণে বোয়িং কিনতে হচ্ছে না। দেশের প্রয়োজন ও চাহিদার ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আরও উড়োজাহাজ কেনা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের কর্মী পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে একটি চক্রের কারণে দেশটিতে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই চক্রের প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসে নতুনভাবে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। পর্যায়ক্রমে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আরও কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি কলকাতায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হোটেলে থাকার জায়গা না পাওয়া এবং বাধ্য হয়ে রাস্তায় রাত কাটানোর অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট ঘটনা ও তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আনা হলে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন হুমায়ুন কবির। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে জ্বালানি খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। বর্তমান সরকার এই খাতের সংকট মোকাবিলায় গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং বিকল্প উৎসের সন্ধানসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সিলেটে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী এবং দলের কেন্দ্রীয় সাবেক সহসভাপতি আব্দুল মন্নানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশ্বনাথ উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এরপর বিশ্বনাথের কাদিপুর গ্রামে একটি নলকূপের উদ্বোধন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও দুই দেশের সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ফলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে পরবর্তী সময়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



