রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ নুরের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম

ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ নুরের

ছবিঃ সংগৃহীত

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলে সাবেক প্রত্যেক ছাত্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অন্তত শতকোটি টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে দাবি করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে গণঅধিকার পরিষদের মহানগর দক্ষিণের কর্মিসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক নুর বলেন, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ছাত্র উপদেষ্টাদের মধ্যে শুধু একজন নয়, প্রত্যেকের কর্মকাণ্ড নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তার দাবি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রত্যেক ছাত্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে অন্তত শতকোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসবে।

তবে তিনি তার বক্তব্যের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট নথি, হিসাব বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। ফলে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো হয়নি বলেও মন্তব্য করেন নুর। তিনি বলেন, ওই সময় দল-মতনির্বিশেষে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন ও ঐক্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ এবং ছাত্র উপদেষ্টাদের ভূমিকার কারণে সেই ঐক্য ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর সামনে আসা কয়েকজন ছাত্র উপদেষ্টা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক কাঠামো ব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়ে কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, তরুণদের নেতৃত্বে একটি নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার যে প্রত্যাশা জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছিল, ছাত্র উপদেষ্টাদের কিছু কর্মকাণ্ড সেই প্রত্যাশাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এর ফলে গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা কাঙ্ক্ষিত পথে এগোয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গ তুলে নুরুল হক নুর বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অনিয়মের নির্দিষ্ট অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারবে না। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়িত্ব ছাড়তেও তিনি প্রস্তুত রয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের ভ্যাট ও করের অর্থে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। তাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ দায়িত্বশীল প্রত্যেক ব্যক্তিকে জনগণের কাছে জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জনগণকে যথাযথ সেবা দিতে হবে এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মিসভায় তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার না করে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্‌ঘাটনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
 

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!