রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

তিন মাসে ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১২:১১ পিএম

তিন মাসে ডেঙ্গু সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আগামী তিন মাসকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিরোধ কার্যক্রম চালানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তিন মাসের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতির পুরোপুরি সমাধান সম্ভব না হলেও অন্তত ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হবে। এজন্য সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় তিন মাসব্যাপী এই বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিটি ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ শুধু সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ যদি নিজ নিজ বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নেন, তাহলে পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা গেলে এডিস মশার বিস্তার অনেকটাই কমিয়ে আনা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ২৩ লাখ স্কাউট এবং দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনেও রয়েছে বিপুলসংখ্যক সদস্য ও কর্মী। এত বিশাল জনগোষ্ঠী যদি দেশকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার কাজে যুক্ত হয়, তাহলে বড় ধরনের পরিবর্তন সম্ভব।

তিনি তরুণদের ভূমিকার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে পরিবর্তন আনার যে শক্তি রয়েছে, তা কাজে লাগাতে পারলে সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা করা সহজ হবে। তরুণদের দেশ পুনর্গঠনের কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাড়ির আশপাশে পড়ে থাকা ভাঙা পাত্র, পরিত্যক্ত সামগ্রী কিংবা যেসব স্থানে পানি জমে থাকে, সেগুলো এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। এসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার করা গেলে মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে ঠেকানো সম্ভব। তাই কোথাও যেন অপ্রয়োজনে পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার অভ্যাস পরিবর্তনের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাস্তাঘাট, খোলা জায়গা কিংবা বসতবাড়ির আশপাশে ফেলে রাখা বোতল, পাত্র ও অন্যান্য বর্জ্যে পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এসব ময়লা পরিবেশের সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি নানা ধরনের রোগের ঝুঁকিও বাড়ায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বকে কঠিন কাজ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রত্যেকে যদি সপ্তাহে মাত্র এক ঘণ্টা নিজের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার করেন, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ কাজে পরিবার থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা ও সামাজিক পর্যায়ে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দেশব্যাপী নেওয়া কর্মসূচির আওতায় প্রতি শনিবার ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে কার্যক্রম চালানো হবে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষার্থী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদেরও এতে যুক্ত করা হচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু পরিচ্ছন্নতা নয়, চিকিৎসাব্যবস্থার প্রস্তুতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা শয্যার ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রোগ নির্ণয়ের উপকরণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর মজুত নিশ্চিত করার কথাও জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মানুষের সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষ নিজের ঘর পরিষ্কার রাখলেও তার আশপাশ অপরিচ্ছন্ন থাকলে ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, নিজের স্বাস্থ্য ও পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষার পাশাপাশি সমাজের অন্য মানুষের কথাও ভাবতে হবে। কারও অসচেতনতার কারণে যদি মশার বিস্তার ঘটে, তাহলে তার প্রভাব পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে পুরো এলাকার মানুষের ওপর পড়তে পারে। এ কারণে সবাইকে সম্মিলিতভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের পরিবর্তনে তরুণদের শক্তি ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। এবার সেই শক্তিকে রাষ্ট্র ও সমাজ পুনর্গঠনের কাজে ব্যবহার করতে হবে। পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের নেতৃত্বে সামাজিক উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারের এই তিন মাসের কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলা। সংশ্লিষ্টদের আশা, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর—ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো গেলে রোগের বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিন মাসের এই উদ্যোগে সবাইকে সম্পৃক্ত করা গেলে ডেঙ্গু পরিস্থিতির বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। শতভাগ সাফল্য না এলেও অন্তত ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে সরকার—এমন প্রত্যাশার কথাই জানান তিনি।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!