রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হাদির হত্যাকারীদের ফেরত না দিলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই: রাশেদ খাঁন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

হাদির হত্যাকারীদের ফেরত না দিলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই: রাশেদ খাঁন

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ভারত থেকে ফেরত না আনা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও ভারতের কাছে উত্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের সিদ্দিকীয়া আলিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন দেশের নিজস্ব স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হবে। কোনো রাষ্ট্রের চাপ বা প্রভাবের কাছে সরকার নতি স্বীকার করবে না। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রাশেদ খাঁনের দাবি, হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ফেরত দেওয়ার জন্য ভারতের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব বিষয়ে অগ্রগতি না হলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সরকার নতুন করে ভাববে না।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মানবাধিকার প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষ্য, হত্যা, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত হয়ে ওঠা পুরোনো বাহিনীর দায় বর্তমান সরকার বহন করতে চায় না। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের লক্ষ্যেই পুরোনো কাঠামো বিলুপ্ত করে নতুন বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

নতুন বাহিনী জনগণের পাশে থেকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এ বিষয়ে কোনো মতামত বা পরামর্শ থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়ার কথাও জানান।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের নানা সংকট ও দুর্বলতা কাটিয়ে দেশকে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি জ্বালানি খাতেও নানা সমস্যা রয়েছে। এ অবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।

তবে বিরোধী দল সরকারের পাশে না থেকে রোডমার্চের মতো কর্মসূচিতে ব্যস্ত রয়েছে বলে সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে যদি জ্বালানি সংকটের সমাধান করা সম্ভব হতো, তাহলে সরকারও এমন কর্মসূচির আয়োজন করত।

রাশেদ খাঁন বলেন, আলোচনার মাধ্যমে যেসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব, সেগুলোকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বড় রাজনৈতিক বিরোধে পরিণত করা ঠিক নয়। এতে সরকারকে বিব্রত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন। তিনি অভিযোগ করেন, রুমিন ফারহানার বক্তব্যে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভাষার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে দূরত্ব তৈরি হওয়া থেকে রুমিন ফারহানার মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়েও দলের অবস্থান তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, দল যাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেবে, দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তাঁর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। কেউ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নিলে কিংবা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাশেদ খাঁনের বক্তব্যে দেশের পররাষ্ট্রনীতি, হাদি হত্যাকাণ্ড, জ্বালানি সংকট, বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন—একাধিক বিষয় উঠে আসে। তবে ভারত থেকে কাউকে ফেরত আনা কিংবা প্রধানমন্ত্রীর সফরসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান ও কূটনৈতিক অগ্রগতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বক্তব্যের ওপরই নির্ভর করবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!