রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শেখ হাসিনা বিশ্বসেরা অভিনেত্রী: হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০২:৫১ পিএম

শেখ হাসিনা বিশ্বসেরা অভিনেত্রী: হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বসেরা অভিনেত্রী’ আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সামনে সহানুভূতিশীল আচরণ করলেও ওই সময় গুমের ঘটনার সঙ্গে শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততা ছিল।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ভোলার লালমোহন উপজেলা নাগরিক সমাজের আয়োজনে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চার দিনের সফরে ভোলায় থাকা স্পিকার ওই দিন সকালে লালমোহনে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের গণভবনে ডেকে তাদের সান্ত্বনা দেওয়া এবং স্বজনদের ফিরে পাওয়ার আশ্বাস দেওয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনা মানুষের সামনে ভিন্ন একটি চিত্র তুলে ধরেছিলেন। অথচ তার দাবি, এর আড়ালে গুমের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গুম হওয়া ব্যক্তিরা কোথায় আছেন, সে বিষয়ে শেখ হাসিনা অবগত ছিলেন—এমনটাই তিনি মনে করেন। স্বজনদের সামনে তাদের ফিরে আসার বিষয়ে আশ্বাস দেওয়ার ঘটনাকে তিনি অভিনয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, তখন সাধারণ মানুষের কাছে এসব বিষয় স্পষ্ট না হলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সাক্ষ্য ও তথ্য সামনে আসায় পরিস্থিতি পরিষ্কার হয়েছে।

গুমের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের প্রসঙ্গও বক্তব্যে তুলে ধরেন স্পিকার। তিনি দাবি করেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে অতীতের অনেক ঘটনা এখন জনসম্মুখে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গুমের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও তোলেন।

বক্তব্যে তিনি বিগত সরকারের সময়ে গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেন। এ প্রসঙ্গে একজন আইনজীবীকে দীর্ঘ সময় বন্দি রাখার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। হাফিজ উদ্দিন আহমেদের দাবি, ওই ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন আটক রাখার পর শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর তিনি মুক্তি পান এবং পরবর্তী সময়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

সাবেক সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগও করেন স্পিকার। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ তুলে তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রসঙ্গ আনেন। প্রকল্পের কিছু আসবাব ও সরঞ্জামের অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণের অভিযোগও করেন তিনি।

এ ছাড়া সাবেক সরকারের সময়ের কয়েকজন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জনগণের অর্থে পরিচালিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে কোথাও কোথাও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগের মাধ্যমে তিনি বিগত সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

লালমোহনের স্থানীয় রাজনীতি নিয়েও সভায় বক্তব্য দেন স্পিকার। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে তার নির্বাচনি এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল। ২০১০ সালের উপনির্বাচনের সময় তার সমর্থকদের ওপর হামলা ও বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।

নিজের নির্বাচনি এলাকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। সভার শেষ পর্যায়ে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে নিজের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে মতামত জানতে চান।

এ সময় সংসদীয় পদ্ধতির আদলে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে মতামত নেওয়া হয়। সেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়ায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের করতালির মধ্য দিয়ে মতবিনিময় সভার সমাপ্তি হয়।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয় এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল এতে সঞ্চালনা করেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!