প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৮:২৭ এএম
বগুড়ায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য এবং বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের অভিযোগে সীমা মিত্র (৪০) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে শহরের গোয়ালগাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়া সদর থানা পুলিশের একটি দল গোয়ালগাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। ওই সময় একটি বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সীমা মিত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সিংহখালী গ্রামের শরৎ মিত্রের মেয়ে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সীমা মিত্র বেশ কিছুদিন ধরে বগুড়া শহরের সুলতানগঞ্জপাড়ার গোয়ালগাড়ি এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতা রাহুল গাজীর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। রাহুল গাজী প্রয়াত ভাষাসৈনিক গাজিউল হকের ছেলে।
পুলিশের অভিযোগ, ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য ও ভিডিও তৈরি করে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে প্রচার করে আসছিলেন সীমা মিত্র। তার ব্যবহৃত ‘ভয়েজ অব ৭১’ এবং ‘সীমা মিত্র ৭১’ নামের দুটি হিসাবে এসব বক্তব্য ও ভিডিও প্রচার করা হতো বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, প্রচারিত কিছু ভিডিও ও বক্তব্য বিভ্রান্তিকর এবং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর ছিল। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে সীমা মিত্রের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম আলী জানান, গ্রেপ্তারের পর সীমা মিত্রকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য ও ভিডিও প্রচারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা বক্তব্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, গ্রেপ্তারের পর সীমা মিত্রকে আদালতে সোপর্দ করার মধ্য দিয়ে বিষয়টি এখন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা শেষ পর্যন্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।



