প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
বগুড়ায় ঋণের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যবসায়ী বন্ধুকে কোমলপানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দুই তরুণের বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রায় এক মাস পর দায়ের হওয়া মামলায় নাজিম উদ্দিন (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গ্রেপ্তার নাজিম কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রামের বাবলু মিয়ার ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অপর ব্যক্তি মো. স্বপন (২৮), যিনি একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন, বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহত ওয়াহেদ হোসেন ওরফে নিঝুম (৩৭) বগুড়া শহরের সূত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বাবার সঙ্গে শহরের স্টেশন সড়কে ‘নিঝুম এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন। ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে সম্প্রতি তার মা রঞ্জনা বেগমের নামে একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়। ওই ঋণের তিন লাখ টাকা পারিবারিক ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়। অবশিষ্ট টাকা থেকে বন্ধু স্বপনকে দুই লাখ এবং নাজিমকে এক লাখ টাকা ধার দেন নিঝুম।
পরবর্তী সময়ে ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাওয়া এবং আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে নিঝুমের সঙ্গে নাজিম ও স্বপনের বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে এই বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে মামলার তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৭ আগস্ট নাজিম কৌশলে নিঝুমকে বগুড়ার মালগ্রাম এলাকায় অবস্থিত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ডেকে নেন। এর আগে নাজিম তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে অচেতন করার ওষুধ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য খুঁজেছিলেন বলে তদন্তে জানা যায়। পরে কোমলপানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে নিঝুমকে পান করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পান করার পর তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হত্যার পর মরদেহটি একটি বস্তায় ভরে মালগ্রাম মধ্যপাড়া দীঘিপাড় এলাকায় ফেলে রাখা হয়। পরদিন নাজিম ও স্বপন চাকরি থেকে পদত্যাগ করে দ্রুত কর্মস্থল ত্যাগ করেন এবং আত্মগোপনে চলে যান। পরে ১২ আগস্ট মালগ্রাম–শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ সড়কের পাশ থেকে পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় অবস্থায় বস্তাবন্দী মরদেহটি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি নিঝুমের বলে শনাক্ত করেন।
নিখোঁজ হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে প্রত্যক্ষ প্রমাণ না পাওয়ায় পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক মো. শরিফুল ইসলাম জানান, নিঝুমের মুঠোফোনের কলের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নিখোঁজ হওয়ার আগে নাজিম ও স্বপনের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল। এর ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে নাজিমকে নজরদারিতে রাখা হয়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রামে অভিযান চালিয়ে নাজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহীম আলী জানান, নিহতের ভাই সোহেল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার নাজিমকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপর অভিযুক্ত স্বপনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত বিষাক্ত পদার্থ, চেতনানাশক ও অন্যান্য আলামত সম্পর্কে তদন্ত চলছে।



