প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
ভারতের আহমেদাবাদে ২২ বছর বয়সী এক তরুণীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগ উঠেছে তার বাবা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে। পুলিশের তদন্তে এমন তথ্য উঠে আসার পর নিহত তরুণীর বাবা ও ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত সোফিয়া একটি হাসপাতালে অভ্যর্থনাকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট রাতে সোফিয়াকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির বাইরে নিয়ে যান তার বাবা মোহম্মদ ফারুক ও ৩৮ বছর বয়সী ভাই মোহম্মদ হাবিল। তারা আহমেদাবাদের গেহলজিপুরা গ্রামের কাছাকাছি একটি নির্জন সড়কে পৌঁছানোর পর তরুণীর ওপর হামলা চালান বলে তদন্তকারীদের দাবি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর সোফিয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় সড়কের কাছে ফেলে রাখা হয়। পরে তার মরদেহ ও মোটরসাইকেল মূল সড়কের কাছাকাছি নিয়ে গিয়ে মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করা হয়। এরপর ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনার রূপ দিতে একটি পরিকল্পিত গল্প তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর হাবিল কর্তৃপক্ষকে জানান, তারা মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি গাড়ি এসে তাদের ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনার পর গুরুতর আহত সোফিয়াকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন তার মৃত্যু হয়।
তবে শুরু থেকেই ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের মনে সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তী তদন্তে দুর্ঘটনার বর্ণনার সঙ্গে বিভিন্ন তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান শুরু করে তদন্তকারীরা।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, প্রায় তিন মাস আগে সোফিয়ার সঙ্গে এক ব্যক্তির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে তার বাবা ও ভাই ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থেকেই তারা সোফিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে পুলিশের অভিযোগ।
তদন্তকারীদের আরও দাবি, ঘটনার দিন হাবিল সঙ্গে একটি লোহার হাতুড়ি নিয়ে বের হয়েছিলেন। নির্জন এলাকায় যাওয়ার পর বাবা ও ছেলে মিলে সোফিয়ার ওপর হামলা চালান বলে ধারণা করছে পুলিশ। পরে হত্যাকাণ্ডের আলামত আড়াল করতে মোটরসাইকেলটি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় এবং পুরো ঘটনাকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সোফিয়ার বাবা মোহম্মদ ফারুক ও ভাই মোহম্মদ হাবিলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে তারা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের তদন্তে উঠে আসা এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযুক্তদের দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাবে না। তবে একটি কথিত সড়ক দুর্ঘটনার আড়ালে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ সামনে আসায় ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।



