রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আটঘরিয়ায় জামিনে থাকা বিএনপি নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ০৮:৪২ পিএম

আটঘরিয়ায় জামিনে থাকা বিএনপি নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা

ছবি: সংগৃহীত

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় আদম আলী নামের এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের চণ্ডীপাশা গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত আদম আলীর বয়স প্রায় ৬০ বছর। তিনি একদন্ত ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য এবং একই ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বাড়ি ইউনিয়নের ষাটগাছা গ্রামে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য আদম আলী একদন্ত বাজারে গিয়েছিলেন। বাজারের কাজ শেষ করে বাড়ির উদ্দেশে ফেরার সময় চণ্ডীপাশা গ্রামের একটি এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুলিতে আহত হয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে গেলে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপায়। পরে তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায় তারা।

আশপাশের লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে এগিয়ে এলেও ততক্ষণে আদম আলীর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

আদম আলীর রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে একটি গুরুতর ফৌজদারি মামলাও চলমান ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আটঘরিয়ার ষাটগাছা গ্রামের একটি বাঁশঝাড় থেকে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় করা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আদম আলীকে প্রধান আসামি করা হয়েছিল।

মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনার কয়েক দিন পর টাঙ্গাইলের আশেকপুর বাইপাস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ওই কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন বলে সে সময় পুলিশ জানিয়েছিল। পরে মামলার তদন্ত শেষ করে ২০২৫ সালের শেষ দিকে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। সেখানে আদম আলীকে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে কারাগারে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান এবং সম্প্রতি নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। জামিনে মুক্তির পর অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন।

একদন্ত ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, আদম আলী তাদের ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে আদম আলীকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন। হত্যার প্রকৃত কারণ বের করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এদিকে আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে হত্যার পেছনে কারা রয়েছে বা কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, হত্যার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলাসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডের ধরন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রথমে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। দিনের বেলায় জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পূর্ববিরোধ, রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা কিংবা অন্য কোনো কারণ এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিহত ব্যক্তির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও তার সঙ্গে বিরোধে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত হত্যার সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করা হবে।

নিহত আদম আলীর বিরুদ্ধে আগের মামলার অভিযোগের বিষয়টি আলাদা হলেও তার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওই মামলার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। পুলিশ বলছে, কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আগেভাগে সিদ্ধান্তে না গিয়ে সব সম্ভাবনাই যাচাই করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত এবং তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!