রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১১ সন্তানের কেউ চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও বিচারক: পেছনে এক মায়ের অদম্য সংগ্রামের গল্প

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম

১১ সন্তানের কেউ চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও বিচারক: পেছনে এক মায়ের অদম্য সংগ্রামের গল্প

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের পটিয়ার প্রত্যন্ত গ্রাম নাইখাইনের এক সাধারণ পরিবারের গল্প আজ অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার। সীমিত আয়, ছোট ঘর, অভাব-অনটন আর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সন্তানদের পড়াশোনা থেকে দূরে রাখেননি এক মা। নিজের জীবনের আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে তিনি একে একে ১১ সন্তানকে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে নিয়েছেন। তাঁর সন্তানদের কেউ চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী, কেউ বিচারক, কেউ শিক্ষক, আবার কেউ সরকারি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত।

এই অসাধারণ সংগ্রামী মায়ের নাম চেমন আরা বেগম। বয়স এখন ৭৮ বছর। জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসে সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দৃশ্যই যেন তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন। একসময় যে সংসারে প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটানোই ছিল কঠিন, সেই পরিবারের সন্তানরাই আজ নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে দায়িত্বশীল অবস্থানে রয়েছেন।

চেমন আরার স্বামী মো. আবদুল্লাহ তৎকালীন চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালটিতে কর আদায়কারী হিসেবে চাকরি করতেন। তাঁর আয় ছিল সীমিত। তার ওপর সংসারে ছিল ১১ সন্তানের দায়িত্ব। এমন বাস্তবতায় সন্তানদের সবার লেখাপড়ার খরচ বহন করা ছিল অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আপস করতে রাজি ছিলেন না চেমন আরা।

নিজে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাননি তিনি। তবে শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে তাঁর উপলব্ধি ছিল গভীর। তাই সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী করে তোলেন। শুধু স্কুলে পাঠিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি; প্রতিদিন কে বিদ্যালয়ে গেল, কখন ফিরল, পড়াশোনা ঠিকমতো হলো কি না—সবকিছুর ওপর নজর রাখতেন। সময় নষ্ট করা কিংবা অযথা আড্ডা দেওয়ার সুযোগ ছিল না সন্তানদের।

অভাবকে জয় করার শুরু

নাইখাইন গ্রামের বাড়িতে একসময় তাঁদের বসবাস ছিল অতি সাধারণ একটি ঘরে। স্বল্প জায়গার সেই ঘরেই একে একে জন্ম নেয় ১১ সন্তান। সংসারের আয় সীমিত হওয়ায় বাড়তি খরচের সুযোগ ছিল না। পোশাক থেকে শুরু করে খাবার—সবকিছুতেই হিসাব করে চলতে হতো।

তবে সন্তানদের শিক্ষার বিষয়ে চেমন আরা ছিলেন দৃঢ়। সংসারের আয় দিয়ে সব প্রয়োজন মেটানো সম্ভব না হওয়ায় তিনি বাড়ির পাশে থাকা জমিতে চাষাবাদ করতেন। কখনো হাঁস-মুরগি পালন করেছেন, কখনো বাড়ির উৎপাদিত সামগ্রী বিক্রি করে সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় মেটানোর চেষ্টা করেছেন।

পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেই জানা যায়, সন্তানদের পড়াশোনার জন্য মা-বাবা দুজনই পরিশ্রম করতেন। বাবা সকালে জমির কাজে সময় দিতেন এবং পরে কর্মস্থলে যেতেন। দিনের কাজ শেষে বাড়ি ফিরে সন্তানদের পড়াশোনায় সহযোগিতা করতেন। অন্যদিকে, ঘরের কাজের পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার নিয়মিত খোঁজ রাখতেন মা।

তখন গ্রামে বিদ্যুতের সুবিধাও ছিল না। সন্ধ্যার পর হারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করতে হতো। ছোট্ট ঘরে একসঙ্গে বসে সন্তানরা পড়ত। রান্নার কাজ করতে করতেই তাদের পড়াশোনা দেখতেন চেমন আরা। সন্তানদের কেউ পড়ায় ফাঁকি দিচ্ছে কি না, কে কোন বিষয় পড়ছে—এসবও খেয়াল রাখতেন তিনি।

শুধু পড়াশোনার চাপই ছিল না। পরিবারের বড় সন্তানদের সংসারের ছোটখাটো কাজেও অংশ নিতে হতো। বাড়ির হাঁস-মুরগি দেখাশোনা, প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি কিংবা অন্যান্য কাজে তারা মাকে সহযোগিতা করত। এতে একদিকে যেমন সংসারের কাজ চলত, অন্যদিকে সন্তানদের মধ্যে দায়িত্ববোধও তৈরি হয়।

কঠোর শাসন, নিয়ম আর মায়ের নিরন্তর নজর

চেমন আরার সন্তানদের সাফল্যের পেছনে তাঁর কঠোর শাসনের বিষয়টি বারবার উঠে এসেছে। তিনি সন্তানদের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টি করতেন না; বরং নিয়মের মধ্যে রেখে পড়াশোনায় মনোযোগী করার চেষ্টা করতেন।

বিদ্যালয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। স্কুল ছুটির পর যথাসময়ে বাড়িতে ফিরতে হতো। নির্দিষ্ট সময় পড়তে বসতে হতো। খেলাধুলা বা বিনোদনের সুযোগ থাকলেও সেটি যেন পড়াশোনার ক্ষতি না করে, সেদিকেও ছিল মায়ের সতর্ক নজর।

অভাবের কারণে সন্তানদের অনেক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। ঈদের সময়ও সবাইকে আলাদা পোশাক কিনে দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। অনেক সময় একই ধরনের পোশাকেই সন্তানদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। কিন্তু এসব সীমাবদ্ধতা তাঁদের শিক্ষাজীবনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

পরিবারের সন্তানদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, মায়ের সেই শৃঙ্খলা ও নিয়মিত তদারকিই পরবর্তী জীবনে তাঁদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। ছোটবেলায় মায়ের কঠোরতা হয়তো কখনো কঠিন মনে হলেও বড় হয়ে তাঁরা বুঝেছেন, সেই শাসনের মধ্যেই ছিল ভবিষ্যৎ গড়ার পরিকল্পনা।

১১ সন্তানের প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত

চেমন আরা ও মো. আবদুল্লাহর আট ছেলে ও তিন মেয়ের সবাই উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছেন। তাঁদের সন্তানদের কর্মজীবনের ক্ষেত্রও বৈচিত্র্যময়।

বড় ছেলে মোহাম্মদ শহীদ উদ্দিন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করে অবসর নিয়েছেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করেন। পাশাপাশি আইন বিষয়ে ডিগ্রিও অর্জন করেছেন।

দ্বিতীয় সন্তান মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সাতকানিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

তৃতীয় সন্তান মোহাম্মদ শাহীন উদ্দিন বিচার বিভাগে কর্মরত এবং লক্ষ্মীপুরের জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সমাজতত্ত্বে স্নাতকোত্তর এবং আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।

চতুর্থ সন্তান পারভীন আক্তার স্নাতক সম্পন্ন করে নারী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

পঞ্চম সন্তান মোহাম্মদ আলমগীর পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থায় পরিবেশ ও বন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক দায়িত্বে কর্মরত। তিনি বন ও পরিবেশবিদ্যায় স্নাতকোত্তর করেছেন।

ষষ্ঠ সন্তান সেলিনা আক্তার শিক্ষকতা পেশায় রয়েছেন। তিনি বিএএফ শাহীন স্কুল ও কলেজে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করেছেন তিনি।

সপ্তম সন্তান মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন শিশু চিকিৎসক। তিনি চট্টগ্রামের সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে জ্যেষ্ঠ পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রির পাশাপাশি শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিও অর্জন করেছেন।

অষ্টম সন্তান অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ পটিয়া সরকারি কলেজের পদার্থবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

নবম সন্তান আবু সাদাৎ মুহাম্মদ সায়েম চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দেশে প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করার পর বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং গবেষণার সর্বোচ্চ পর্যায়ের ডিগ্রিও অর্জন করেছেন।

দশম সন্তান রেজিনা আক্তার শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। তিনি চট্টগ্রামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি আইন বিষয়েও পড়াশোনা করেছেন।

একাদশ সন্তান মোহাম্মদ ওমর কাইয়ুম স্বাস্থ্য খাতের গবেষণা ও রোগতত্ত্বসংক্রান্ত কাজে যুক্ত। তিনি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রির পর রোগতত্ত্ব বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করেছেন।

মায়ের ত্যাগেই সন্তানের পথচলা

চেমন আরার পরিবারের গল্প শুধু ১১ সন্তানের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার গল্প নয়; এটি মূলত একজন মায়ের দীর্ঘদিনের ত্যাগ, ধৈর্য ও দৃঢ়তার গল্প। তিনি নিজের জন্য বড় কোনো স্বপ্ন দেখার সুযোগ পাননি। কিন্তু সন্তানদের নিয়ে তাঁর স্বপ্ন ছিল স্পষ্ট—তাঁরা পড়াশোনা করবে, নিজেদের পায়ে দাঁড়াবে এবং সমাজে সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করবে।

স্বল্প আয়ের সংসারে সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় চালাতে তাঁকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। নিজের প্রয়োজনকে ছোট করে সন্তানদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সংসারের কাজে ব্যস্ত থেকেও তাঁদের পড়াশোনার খবর নিয়েছেন। কখনো জমিতে কাজ করেছেন, কখনো গৃহপালিত পশুপাখি ও হাঁস-মুরগি পালন করেছেন। সংসারের সামর্থ্য যতটুকু ছিল, তার সর্বোচ্চটাই সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য ব্যয় করেছেন।

চেমন আরার বড় ছেলে এক স্মৃতিচারণে জানান, তাঁদের বাবার নিজের জীবনও ছিল সংগ্রামের। অল্প বয়সেই বাবাকে হারিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের দায়িত্ব নিতে হয়েছিল তাঁর। পরে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরও বড় পরিবারের ব্যয় সামলানো সহজ ছিল না। সেই পরিস্থিতিতে মা-ই সন্তানদের শিক্ষার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি দৃঢ় ছিলেন।

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও মিলেছে

সন্তানদের সাফল্যের পাশাপাশি চেমন আরার নিজের অর্জনও কম নয়। সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তোলার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের কাছ থেকে সম্মাননা পেয়েছেন।

২০২৪ সালে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিভাগীয় পর্যায়ে তিনি ‘অদম্য নারী’ সম্মাননা লাভ করেন। এর আগে জেলা পর্যায়েও তিনি শ্রেষ্ঠ জয়িতা হিসেবে সম্মানিত হন। বিভিন্ন সামাজিক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকেও পেয়েছেন রত্নগর্ভা মায়ের সম্মাননা।

তবে এসব পুরস্কারের চেয়েও তাঁর কাছে বড় অর্জন সন্তানদের সাফল্য। যে সন্তানদের নিয়ে একসময় ছোট ঘরে বসে হারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করাতেন, আজ তাঁদের অনেকেই সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। কেউ শিক্ষার্থীদের জ্ঞান দিচ্ছেন, কেউ রোগীর চিকিৎসা করছেন, কেউ বিচারিক দায়িত্ব পালন করছেন, কেউ দেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও গবেষণামূলক কাজে যুক্ত।

আজ মায়ের জীবনে প্রশান্তি

জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের পর এখন চেমন আরার দিন কাটে সন্তান ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে। অতীতের কষ্টগুলো আজ তাঁর কাছে যেন স্মৃতি। একসময় যে ঘরে সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে তাঁর ব্যস্ততা ছিল, এখন সেই সন্তানরাই মায়ের পাশে দাঁড়ান।

চেমন আরার জীবন দেখিয়ে দিয়েছে, সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সবসময় বিপুল অর্থসম্পদ প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন দৃঢ় ইচ্ছা, নিয়মিত পরিশ্রম, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অবিচল বিশ্বাস। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও একজন মা কীভাবে ১১টি জীবনকে আলোর পথে নিয়ে যেতে পারেন, তাঁর গল্প তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।

পটিয়ার নাইখাইনের এই মা তাই শুধু নিজের পরিবারের কাছে নন, বৃহত্তর সমাজের কাছেও এক অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর সংগ্রাম প্রমাণ করে—অভাব কখনো স্বপ্নের শেষ কথা নয়। একজন মা যদি সন্তানদের শিক্ষার বিষয়ে দৃঢ় থাকেন এবং প্রতিকূলতার কাছে হার না মানেন, তাহলে ছোট্ট একটি ঘর থেকেও বেরিয়ে আসতে পারে সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বহু মানুষ।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!