প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
কুমিল্লার ওপর দিয়ে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশেষ করে রাতের বেলায় মহাসড়কের কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়ক ও সংযোগ সড়কের নির্জন অংশগুলোতে বাড়ে ডাকাতির আশঙ্কা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১০টার পর থেকে দাউদকান্দি, চান্দিনা, সদর দক্ষিণসহ বিভিন্ন এলাকায় অপরাধীচক্রের তৎপরতা দেখা যায়। কখনো সড়কের ওপর গাছের গুঁড়ি, লোহার রড, ইট-পাথরসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা ফেলে যানবাহন থামানোর চেষ্টা করা হয়। আবার কখনো চলন্ত যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস বা ব্যক্তিগত গাড়িকে অনুসরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে।
এসব ঘটনায় যাত্রীদের সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ, মুঠোফোন, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুটের পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রী, ব্যক্তিগত গাড়িতে চলাচলকারী এবং বিদেশ থেকে দেশে ফেরা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দাউদকান্দি উপজেলার রায়পুর, ইলিয়টগঞ্জ ও গোমতা, চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া এবং সদর দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন অংশে ডাকাতির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র অবস্থান করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, মহাসড়কের বিভিন্ন স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় কিছু ব্যক্তি ভাড়া বাসায় অবস্থান করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। বিশেষ করে ইলিয়টগঞ্জ, মাধাইয়া, চান্দিনা, নিমসার, ময়নামতি ও পদুয়ার বাজার এলাকায় এমন বেশ কিছু সন্দেহজনক ব্যক্তির অবস্থান রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
পুলিশের একাধিক সূত্রের ভাষ্য, সংঘবদ্ধ অপরাধীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে থাকে। রাতের আঁধারে ভাড়া বাসায় একত্রিত হয়ে তারা পরিকল্পনা করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি ব্যবহারের তথ্যও পাওয়া গেছে।
এদিকে মহাসড়কে ডাকাতি প্রতিরোধে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রেম দাস রায় জানান, ডাকাতি ঠেকাতে মহাসড়কে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে এবং ডাকাতচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা গেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু নিয়মিত টহল নয়, দীর্ঘমেয়াদে ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এসব এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন এবং সন্দেহজনক যানবাহন ও ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ডাকাতচক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে। ফলে মহাসড়কে নিরাপত্তার ঘাটতি তৈরি হলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক যাতায়াতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে রাতের যাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।



