রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সবাই মিলে দেশ পুনর্গঠন করলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০১:১৫ পিএম

সবাই মিলে দেশ পুনর্গঠন করলে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ ও শিক্ষার্থী যদি পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে দেশ পুনর্গঠনের পথে কোনো বাধাই তাদের আটকে রাখতে পারবে না।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দেশের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ যদি দেশ পরিবর্তনের কাজে যুক্ত হয়, তাহলে তাদের সম্মিলিত শক্তি কাজে লাগিয়ে অনেক বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। এ জন্য শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে নাগরিকদেরও নিজেদের দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে।

তরুণদের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে প্রায় ২৩ লাখ স্কাউট সদস্য এবং প্রায় ২২ হাজার বিএনসিসি সদস্য রয়েছেন। এর বাইরে স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীসহ এই সংখ্যা আরও বড়। এত বিপুলসংখ্যক তরুণ ও শিক্ষার্থী যদি দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে একযোগে কাজ করে, তাহলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন অর্জন করা সম্ভব।

দেশ গড়ার দায়িত্ব তরুণ সমাজকেই নিতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশ সবার। তাই দেশকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তোলার দায়িত্বও সবার। তিনি নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে তিনি দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষ একত্র হয়ে একটি অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে—আবর্জনা কমানো এবং পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখা। এই উদ্যোগকে শুধু ডেঙ্গু প্রতিরোধের কর্মসূচি হিসেবে না দেখে নাগরিক দায়িত্ববোধ তৈরির একটি বড় সুযোগ হিসেবেও দেখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণ সমাজ এর আগেও বড় পরিবর্তন আনার সক্ষমতা দেখিয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সময় তরুণদের নেতৃত্বে যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল, তা তাদের সামর্থ্যের প্রমাণ। এবার সেই শক্তিকে দেশ পুনর্গঠনের কাজে ব্যবহার করার আহ্বান জানান তিনি।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও তরুণদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান। তিনি জানান, আগামী তিন মাস দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হবে। এই সময়ের মধ্যে সমস্যাটি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব না হলেও বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে। কার্যকরভাবে কাজ করা গেলে ডেঙ্গুর প্রকোপ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। বাড়ির আঙিনা, আশপাশের এলাকা এবং পানি জমে থাকতে পারে এমন স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং নিজেদের পাশাপাশি প্রতিবেশীদেরও এ কাজে উৎসাহিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, তরুণ প্রজন্ম যেন শুধু পরিবর্তনের প্রত্যাশা না করে বরং পরিবর্তন বাস্তবায়নের অংশীদার হয়। পরিচ্ছন্নতা, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা থাকলে একটি শক্তিশালী ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের নানা সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব। তরুণ সমাজ যদি দেশ গঠনের কাজে নেতৃত্ব দেয় এবং সাধারণ মানুষ তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে একটি উন্নত ও পরিচ্ছন্ন রাষ্ট্র গড়ে তোলার পথ আরও সহজ হবে।

দেশ পুনর্গঠনের এই কাজে তরুণদের সরাসরি যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটি সবার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যই এটি গড়ে তুলতে হবে। তাই দেশের কল্যাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার এখনই সময়।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!