রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কিশোরগঞ্জে মাদকের টাকার জন্য শিশু বিক্রির অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম

কিশোরগঞ্জে মাদকের টাকার জন্য শিশু বিক্রির অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে মাদকের টাকা জোগাড় করতে চার পরিবারের পাঁচ শিশুকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পৃথক সময়ে এসব শিশুকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ক্ষোভ, উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দারিদ্র্য ও মাদকাসক্তির কারণে গ্রামের কিছু পরিবার সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করে অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে দিয়ে দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শিশুদের প্রথমে যাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল, তাদের কেউ কেউ পরে আরও বেশি টাকার বিনিময়ে অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে এসব শিশুর বর্তমান অবস্থান, পরিচয় ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর জাকির মিয়া ও ফারজানা আক্তার দম্পতির ঘরে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। অভিযোগ রয়েছে, জন্মের পরপরই শিশুটিকে পাশের পাকুন্দিয়া উপজেলার মঠখোলা এলাকার একটি পক্ষের কাছে ৬০ হাজার টাকায় দিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত ৬ সেপ্টেম্বর কটিয়াদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন শিশুটির বাবা জাকির মিয়া।

জাকির মিয়ার দাবি, তাঁর অজান্তে স্ত্রী ফারজানা, শাশুড়ি ও দুই মধ্যস্থতাকারী মিলে নবজাতকটিকে বিক্রি করেছেন। তবে ফারজানা আক্তার এ অভিযোগ অস্বীকার করে স্বামীকেই দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, জাকির দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। সংসারের নানা সংকটের জন্য তিনিই দায়ী। সন্তান দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি থাকলেও পরে অন্যদের প্ররোচনায় জাকির থানায় অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, একই গ্রামে এর আগে আরও কয়েকটি পরিবার তাদের সন্তানকে অর্থের বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি শিশুকে দেড় লাখ টাকা, আরেকটিকে ২০ হাজার টাকা, অন্য একটি শিশুকে ৭৭ হাজার টাকা এবং আরও একটি শিশুকে দুই লাখ টাকায় দেওয়া হয়েছে। এসব লেনদেনের সঙ্গে মঙ্গলা বেগম নামে এক ভিক্ষুক নারী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তিনি বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে শিশু কেনাবেচার কাজ করেন বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

গ্রামবাসীরা জানান, এলাকায় মাদকের বিস্তার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে হামলা, হয়রানি কিংবা নানা চাপের আশঙ্কায় অনেকে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। শিশু বিক্রির অভিযোগে অভিযুক্ত কয়েকটি পরিবার ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়ার পর গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে মাদকের প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। মাদকের টাকা জোগাড় করতে বিভিন্ন সময়ে পাঁচটি শিশু বিক্রি করে দেওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। মাদকমুক্ত পরিবেশ তৈরিতে প্রশাসনের সহযোগিতায় কাজ করার আশ্বাস দেন তিনি।

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, শিশু বিক্রির অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের কথাও জানান তিনি।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!