প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ গোপদীঘি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই শিশু সম্পর্কে একই গ্রামের বাসিন্দা। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহত শিশুরা হলো দক্ষিণ গোপদীঘি গ্রামের আব্দুল কাদিরের চার বছর বয়সী মেয়ে হাফিজা এবং একই গ্রামের জুয়েল মন্ডলের ছয় বছর বয়সী ছেলে জয়ন্ত মন্ডল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার সকালে হাফিজা, জয়ন্তসহ কয়েকজন শিশু বাড়ির পাশের একটি পুকুরের পাড়ে খেলাধুলা করছিল। শিশুরা নিজেদের মতো করে খেলায় ব্যস্ত থাকলেও কোনো একসময় হাফিজা ও জয়ন্ত সবার অগোচরে পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কেউ বুঝতে পারেনি।
কিছু সময় পর পরিবারের সদস্যরা শিশু দুটিকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। প্রথমে বাড়ির আশপাশসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের সন্ধান করা হয়। পরে ধারণা করা হয়, তারা হয়তো পুকুরের পানিতে পড়ে যেতে পারে। এরপর স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও পুকুরে নেমে তল্লাশি শুরু করেন।
দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর পানির নিচ থেকে প্রথমে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে একই পুকুর থেকে অপর শিশুর মরদেহও উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। দুই শিশুকে দ্রুত মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দক্ষিণ গোপদীঘি গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে স্থানীয় পরিবেশ। ছোট দুই শিশুর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি প্রতিবেশীরাও গভীরভাবে শোকাহত হয়েছেন।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোয়ার মোহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বাড়ির কাছাকাছি পুকুর থাকায় শিশুদের খেলাধুলার সময় তাদের প্রতি বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ করে অল্প বয়সী শিশুদের একা পুকুরের পাড়ে যেতে না দেওয়ার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের আরও সতর্ক থাকা জরুরি। সামান্য অসতর্কতার সুযোগে পানিতে পড়ে শিশুদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে।
এলাকাবাসী মনে করছেন, বাড়ির আশপাশের পুকুর ও জলাশয়ের পাড়ে শিশুদের চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও শিশুদের খেলাধুলার সময় নিয়মিত নজরদারি করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দুই শিশুর এই করুণ মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বাড়ির কাছের পুকুরও ছোট শিশুদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই শিশুদের নিরাপদ রাখতে পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।



