রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

২৬ বছর পর দুই হত্যা মামলায় ১০৪ বছর বয়সী আসামি কারাগারে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম

২৬ বছর পর দুই হত্যা মামলায় ১০৪ বছর বয়সী আসামি কারাগারে

ছবিঃ সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জে দোকানে ডাকাতির পর দুই ব্যক্তি হত্যার প্রায় ২৬ বছর পর মামলার সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। নুর মোহাম্মদ নামের ওই আসামির বর্তমান বয়স ১০৪ বছর। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতে আত্মসমর্পণের পর নুর মোহাম্মুদের পক্ষে তাঁর আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি আদালতকে জানান, তাঁর মক্কেল বর্তমানে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন। তাঁর হৃদরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা রয়েছে। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাও তাঁর জন্য কঠিন। নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি ওষুধ সেবন করতে হয়। শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও তিনি নিজে আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন উল্লেখ করে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন দেওয়ার আবেদন জানান আইনজীবী।

তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত জামিনের আবেদন গ্রহণ করেননি। পরে নুর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকায় ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। একদল ডাকাত দোকানে প্রবেশ করে সিন্দুক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। লুট হওয়া সম্পদের মধ্যে ছিল প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা এবং ১১০ ভরি স্বর্ণ। ডাকাতির সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবির নামে দুই ব্যক্তি নিহত হন।

ঘটনার পর দোকানের মালিক ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। পরে মামলাটি কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন নুর মোহাম্মদও। অন্যদিকে জসিম, সিদ্দিক, আমির চান, কবির ও বজলুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের বিষয় এবং আসামিদের করা আপিলের শুনানি উচ্চ আদালতে অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট দেওয়া রায়ে নুর মোহাম্মদের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই রায়ে কেবল আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়।

তবে সাজা কমে ১০ বছর হলেও নুর মোহাম্মদ এতদিন সেই সাজা ভোগ করেননি। মামলার বিচার চলাকালে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর তিনি জামিনে মুক্ত হন। এরপর আত্মগোপনে চলে যান। এমনকি ২০০৩ সালে মামলার রায় ঘোষণার সময়ও তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

দীর্ঘ সময় পর অবশেষে মঙ্গলবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁর বয়স, শারীরিক অসুস্থতা এবং দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার বিষয়টি শুনানিতে আলোচনায় আসে। তবে আদালত জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা এই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামির কারাগারে যাওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ১০৪ বছর বয়সে এসে নুর মোহাম্মুদের আদালতে আত্মসমর্পণ এবং জামিন না পাওয়ার বিষয়টি মামলাটিকে আবারও আলোচনায় এনেছে।

 

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!