প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের সব আদালতে দুর্নীতি বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তাঁর দাবি, আগামী এক মাসের মধ্যে আপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগ এবং দেশের অন্যান্য আদালতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হাইকোর্ট বিভাগের বর্ধিত ভবনের সামনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আদালতের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। মামলার তদবির, তালিকায় মামলা ওঠানো, শুনানির সুযোগ তৈরি করা এবং কিছু বিচারিক কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার শেষ আশ্রয় আদালত হওয়ায় এ ধরনের অভিযোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্নীতির অভিযোগের বিচারও আদালতেই হয়। অথচ একজন বিচারপ্রার্থী যদি নিজের মামলা পরিচালনার জন্য আদালত প্রাঙ্গণে এসে বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়মের শিকার হন, তাহলে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
আদালতের যেসব বিচারিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এই আইনজীবী নেতা। একই সঙ্গে অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে—এমন বিচারপতিদের বিষয়েও প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মাহবুব উদ্দিন খোকন আরও বলেন, শুধু দুর্নীতি বন্ধ করলেই হবে না, সুপ্রিম কোর্টের সার্বিক পরিবেশও উন্নত করতে হবে। আদালত প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে থাকা বস্তি উচ্ছেদ করে আইনজীবীদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরির দাবি জানান তিনি। আইনজীবীদের বসার জন্য প্রয়োজনীয় ভবন, কক্ষ, কিউবিক্যাল ও হলরুম নির্মাণের পাশাপাশি আপাতত অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে ছাউনি নির্মাণের প্রস্তাবও দেন।
তিনি বলেন, আইনজীবীরা যাতে স্বাভাবিক পরিবেশে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য দ্রুত অবকাঠামোগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এসব বিষয়ে এক মাসের মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এদিকে আপিল বিভাগের মামলা জট কমাতেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মাহবুব উদ্দিন খোকন। তাঁর মতে, অবকাশকালীন ছুটি শেষে আপিল বিভাগে অন্তত তিনটি বেঞ্চ চালু করা প্রয়োজন। এজন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
সম্প্রতি আপিল বিভাগে একটি মামলায় জরিমানার আদেশকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি ও মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথনের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এজলাস ত্যাগ করে।
মাহবুব উদ্দিন খোকনের এবারের বক্তব্যে আদালতের দুর্নীতি বন্ধ, বিচারিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত, আইনজীবীদের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন এবং আপিল বিভাগের বেঞ্চ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।



