রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে এনসিপি নেত্রী কারাগারে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম

ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে এনসিপি নেত্রী কারাগারে

ছবিঃ সংগৃহীত

নেত্রকোনায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা প্রতারণার মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির নেত্রী সৈয়দা সাদিয়া ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে নেত্রকোনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে পুলিশ সাদিয়া ইসলামকে আদালতে হাজির করে। তার পক্ষে কোনো আইনজীবী জামিনের আবেদন না করায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহ্ পরাণ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নেত্রকোনা পৌর শহরের কুড়পাড় এলাকায় টাকা নেওয়ার সময় স্থানীয় কয়েকজন সাদিয়াকে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই ঘটনার পর রাতে বলাইগুয়া এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়ার স্ত্রী প্রিয়া আক্তার বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন।

মামলার অভিযোগ ও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে কয়েকজনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। বাদী প্রিয়া আক্তারের দাবি, তিনি নিজেসহ মোট পাঁচজন সাদিয়াকে তিন হাজার টাকা করে দিয়েছেন। অর্থাৎ তাদের কাছ থেকে মোট ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে সাদিয়া ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা জানান। পরে বিকেলে তিনি অন্য এক নারীর কাছ থেকে টাকা নিতে কুড়পাড় এলাকায় গেলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সাদিয়া ইসলাম ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, স্থানীয় কমল নামের এক ব্যক্তির কথায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে তিনি টাকা নিয়েছিলেন। তার দাবি, যারা তাকে টাকা দিয়েছেন, তারা নিজেদের উদ্যোগে কার্ড পাওয়ার আশায় অর্থ দিয়েছিলেন।

সাদিয়ার আরও দাবি, কমলের কথায় নেওয়া ওই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্যই তিনি কুড়পাড় এলাকায় গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সাদিয়া ইসলামকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, কুড়পাড় এলাকার কয়েকজন নারীর কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তিন হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় প্রিয়া আক্তার বাদী হয়ে প্রতারণার মামলা করেন। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার সাদিয়াকে আদালতে পাঠানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেছেন বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা বিষয়টি যাচাই করে দেখছেন বলে জানিয়েছেন। নেত্রকোনা জেলা শাখার সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান বলেন, ঘটনাটি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। তার ধারণা, সাদিয়া কোনো ধরনের চক্রান্তের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। তবে তদন্তে তিনি সংগঠনবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা এবং অর্থ নেওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সাদিয়া ইসলামকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাবে না।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!