প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২৬, ০৯:১২ এএম
তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহে ভয়াবহ ঘাটতিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নেত্রকোনার জনজীবন। জেলার চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকেরও নিচে নেমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি নাজুক। কোথাও কোথাও দিনে ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। পানির মোটর চালানো যাচ্ছে না, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে এবং শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমাতে পারছেন না অনেকেই। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট বিকেলে নেত্রকোনায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১১০ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় মাত্র ৫৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎও তখন পাওয়া যায়নি। পরদিন চাহিদা বেড়ে প্রায় ১২০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ ছিল মাত্র ৬০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি। এতে ব্যাপকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৭২ থেকে ৭৯ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে চার-পাঁচ ঘণ্টার আগে ফিরে না আসার অভিযোগও রয়েছে। বিদ্যুৎ এলেও কিছুক্ষণ পর আবার চলে যাওয়ায় স্বস্তি মিলছে না গ্রাহকদের।
বর্তমানে নেত্রকোনায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা প্রায় ১৮০ থেকে ১৮৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার চাহিদা প্রায় ১৫৯ মেগাওয়াট। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ গ্রিড থেকে নেত্রকোনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। গ্রিড পর্যায়ে সরবরাহের ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
এই পরিস্থিতিতে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জেলার বিদ্যুৎ কার্যালয় ও ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের ক্ষোভ আরও বাড়লে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় প্রায় ৬ লাখ ৭১ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। অন্যদিকে শহর এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় রয়েছে প্রায় ৫৭ হাজার গ্রাহক। সব মিলিয়ে জেলায় বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ২৮ হাজার।
তবে হাসপাতাল, আদালত, ব্যাংক ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো জরুরি স্থাপনাগুলো সচল রাখতে এসব এলাকার সরবরাহ ব্যবস্থায় তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ বিভ্রাট করা হচ্ছে। এতে শহরের কিছু এলাকায় পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় হলেও গ্রামীণ ও আবাসিক এলাকার মানুষকে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সমিতির নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অবহিত করা হয়েছে।



