প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে গ্যাসের ঘাটতিকে চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুতের বর্তমান সংকটও অনেকটাই কেটে যাবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় গ্যাসের জোগান বাড়লে পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশা করছে সরকার।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা মনে করছেন, গ্যাসের সংকট দূর হলে বিদ্যুৎ সরবরাহে যে চাপ তৈরি হয়েছে তা আর এতটা প্রকট থাকবে না।
রাজধানীতে চলমান লোডশেডিং প্রসঙ্গেও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। জাহেদ উর রহমান বলেন, ঢাকাকে সব সময় পুরোপুরি লোডশেডিংমুক্ত রাখার ধারণা থেকে সরকার সরে এসেছে। ফলে রাজধানীর বাসিন্দাদেরও কিছুটা বিদ্যুৎ সংকটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। তবে দেশের সবচেয়ে বড় শহর এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে ঢাকাকে কিছুটা অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, অতীতেও দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিং ছিল। তবে ঢাকার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে এর প্রভাব কম রাখা হয়েছিল। এর পেছনে রাজধানীর মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো রাজধানীতেও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ ঘাটতির তুলনামূলক পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুন মাসে দেশে দৈনিক গড়ে ৯৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল। চলতি বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ কমে ৭৪১ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়। আবার ২০২৩ সালের জুলাইয়ে দৈনিক গড় লোডশেডিং ছিল ৬১৩ মেগাওয়াট। চলতি বছরের জুলাইয়ে সেটি কমে ৪৬০ মেগাওয়াটে নেমে আসে।
তবে আগস্ট মাসে পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন হয়েছে বলে জানান তিনি। ২০২৩ সালের আগস্টে দৈনিক গড় লোডশেডিং ছিল ৩৬০ মেগাওয়াট। বিপরীতে ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে ১ হাজার ৫৬৫ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। অর্থাৎ ওই মাসে বিদ্যুৎ ঘাটতির মাত্রা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
জাহেদ উর রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছে সরকার। গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানি পেলে উৎপাদন বাড়বে এবং এর ফলে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরলে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তিও ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



