রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ১০:১৩ এএম

নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় একাধিক জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। গত ২৬ আগস্ট দেশটির ভুটেকোশি নদী অববাহিকায় আকস্মিক বন্যার পর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন অবকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে আসা নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহে।

বাংলাদেশ সম্প্রতি ভারতের সঞ্চালনব্যবস্থা ব্যবহার করে নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি শুরু করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন পাওয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানকার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ পাঠানোর কার্যক্রমও থেমে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্প দুটির মধ্যে রয়েছে ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। বন্যার পর গত সপ্তাহ থেকে উভয় প্রকল্পেই বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এসব প্রকল্পের বিদ্যুৎ ভারতের সঞ্চালনব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানো হতো।

নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী উভয় প্রকল্পই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প কোনো প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ভুটেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যায় শুধু বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রকল্প দুটিই নয়, নেপালের আরও বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার কারণে মোট ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত বা জাতীয় সঞ্চালনব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এতে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার একটি বড় অংশ সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়েছে।

বন্যার আগে বর্ষা মৌসুমে নেপাল অতিরিক্ত জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করে প্রতিবেশী দেশগুলোতে রপ্তানি করত। এ সময় নদীগুলোতে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়ে। ফলে নিজেদের চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রপ্তানি করা সম্ভব হয়। কিন্তু এবারের ভয়াবহ বন্যা সেই ব্যবস্থায় বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বন্যার আগে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানি গড়ে প্রায় এক হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, সঞ্চালনলাইন ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধ হওয়ার ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। নেপাল দীর্ঘদিন ধরে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়িয়ে আঞ্চলিক বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। শুষ্ক মৌসুমে একসময় দেশটিকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হওয়ায় পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।

তবে এবারের প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই অগ্রযাত্রায় বড় ধাক্কা লেগেছে। বন্যার পানিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি সঞ্চালন অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে শুধু উৎপাদন নয়, উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় সঞ্চালনব্যবস্থায় যুক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ও সঞ্চালন অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় কবে শুরু হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!