রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো তিব্বত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০৯:৩২ এএম

৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো তিব্বত

ফাইল ছবি

তিব্বতে বুধবার শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫ দশমিক ৩ বলে জানিয়েছে ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র। এ ঘটনায় প্রতিবেশী নেপালের কয়েকটি এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি, আহত হওয়ার ঘটনা কিংবা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে ছিল বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ভারতের জাতীয় ভূকম্পনবিদ্যা কেন্দ্র ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫ দশমিক ০ বলে জানিয়েছে। বিভিন্ন ভূকম্পন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের হিসাবে মাত্রায় সামান্য পার্থক্য থাকলেও এটি মাঝারি শক্তির একটি ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তিব্বতে সাম্প্রতিক সময়ের দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন এই ভূমিকম্প আঘাত হানল। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বন্যা, পাহাড়ধস ও হিমবাহ ধসের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে ভূমিকম্পের ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পটি তিব্বতে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আঘাত হানা দ্বিতীয় উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্প। এর আগে ৫ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। ওই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল। অগভীর ভূমিকম্প সাধারণত ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি সংঘটিত হওয়ায় মানুষের কাছে এর কম্পন তুলনামূলক বেশি অনুভূত হতে পারে। তবে আগের ভূমিকম্পেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে নতুন ভূমিকম্পের সময় নেপালের কয়েকটি এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে সেখানেও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দুর্যোগপ্রবণ হিমালয় অঞ্চলে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ভূমিকম্পের এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এর আগে গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধস শুরু হয়। প্রবল স্রোত ও ভূমিধসে বহু সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি এবং বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দুর্যোগের পর নেপালে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাবে, ওই ভয়াবহ দুর্যোগে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩৫৭ জনে পৌঁছেছে। এখনো ৫ হাজার ৩২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে তিব্বতে ওই দুর্যোগে ৪৩ জনের মৃত্যু এবং ৫১৯ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা নিয়ে নেপালে এখনো তথ্য যাচাই ও সমন্বয়ের কাজ চলছে। ফলে প্রকৃত সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

ধ্বংসস্তূপ ও দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে উদ্ধারকারীদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। তবুও উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে কয়েকজনকে জীবিত বের করে আনতে সক্ষম হয়েছেন। কয়েক দিন আগে দুই নেপালি নাগরিক এবং পরদিন একজন চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এতে নিখোঁজ অন্যদের উদ্ধারের আশাও বেড়েছে।

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় সাম্প্রতিক হিমবাহ ধস, পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবে হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন বিজ্ঞানীরা। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে গেলে পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি হিমবাহ ও বরফে জমে থাকা পানি হঠাৎ নেমে এলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে হিমালয় অঞ্চলে বন্যা, ভূমিধস ও ভূমিকম্পের মতো একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটায় ওই এলাকার দুর্যোগ মোকাবিলা ও প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আগাম সতর্কতা, দ্রুত উদ্ধারব্যবস্থা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো শক্তিশালী করা জরুরি।

তিব্বতে বুধবারের ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নতুন কোনো ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হিমালয় অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান ও সাম্প্রতিক দুর্যোগ পরিস্থিতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এসেছে।
 

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!