প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এ এম এ মুহিত। তার আশঙ্কা, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদ এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা বর্তমানে কম, তবু সামনে সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কাকে গুরুত্ব দিয়ে এখন থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য ও বিভিন্ন উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে অক্টোবর মাসে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ সময় শুরু হওয়ার আগেই মশার বংশবিস্তার বন্ধ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগামী দিন থেকেই মাঠপর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। এ কাজে সাধারণ মানুষকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। শুধু সরকারি সংস্থার উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সফলতা পাওয়া কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম, টব, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এবং অন্যান্য সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার করার প্রয়োজন রয়েছে। এসব জায়গায় মশার বংশবিস্তার রোধ করা গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
রাজধানী ঢাকার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অল্প জায়গায় পানি জমে থাকলেও সেখানে মশার প্রজনন হতে পারে। তাই নগরবাসীর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম চালানোর কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাকেন্দ্র এবং অন্যান্য জনসমাগমস্থলে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে। নিজের বাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলা এবং জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আগাম সতর্কতা জারি হওয়ায় সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসকে সামনে রেখে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগে থেকেই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।
বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সামনে সংক্রমণ বাড়ার যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, তা অবহেলা করার সুযোগ নেই। তাই ঝুঁকিপূর্ণ সময় শুরুর আগেই ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়াই হতে পারে ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকানোর কার্যকর উপায়।



