প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষার্থীদের নিজেদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীদেরও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে নেত্রকোনার কলমাকান্দা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদের অধিবেশন দেখতে সংসদ ভবনে এসেছিল।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে। বাড়ি কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে যাতে কোনো ধরনের পানি জমে না থাকে, সেদিকে নিয়মিত নজর দিতে হবে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় জমে থাকা পানি ডেঙ্গুর বাহক মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তাই নিজেদের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি অন্যদেরও এ বিষয়ে সচেতন করার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস শুধু ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। পরিবার থেকেই এর চর্চা শুরু করতে হবে। শিক্ষার্থীরা নিজেরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি পরিবারের সদস্য, সহপাঠী, বন্ধু ও প্রতিবেশীদেরও এ বিষয়ে উৎসাহিত করতে পারে। তাদের ছোট ছোট উদ্যোগও একটি পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিষয়েও খোঁজখবর নেন। তারা কোন শ্রেণিতে পড়ছে, কীভাবে পড়াশোনা করছে এবং ভবিষ্যতে কী হতে চায়—এসব বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিনি আন্তরিক পরিবেশে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন এবং তাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে চান।
পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু পাঠ্যবইয়ের পড়াশোনায় মনোযোগ দিলেই একজন শিক্ষার্থীর পূর্ণাঙ্গ বিকাশ সম্ভব নয়। সুস্থ শরীর ও সুন্দর মন নিয়ে বেড়ে উঠতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, শরীরচর্চা এবং সময়ের সঠিক ব্যবহার জরুরি।
শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি তাদের শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে মানুষের পাশাপাশি আশপাশের প্রাণী ও জীবজন্তুর প্রতিও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অসহায় ও অবলা প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করা উচিত নয়। প্রাণীদের প্রতি মমতা, যত্ন ও দায়িত্বশীল আচরণ একটি মানবিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। তাই ছোটবেলা থেকেই প্রাণী ও জীবজন্তুর প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতির মানসিকতা গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব মো. সুজাউদ্দৌলা এ সাক্ষাতের বিষয়টি জানান।
এদিন ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির মোট ৪২ জন শিক্ষার্থী জাতীয় সংসদের অধিবেশন প্রত্যক্ষ করতে সংসদ ভবনে যায়। তাদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষক এবং পরিচালনা কমিটির দুজন সদস্য ছিলেন। সংসদ অধিবেশন দেখার একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ ও কথা বলার সুযোগ পায়।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়। সরাসরি তাঁর কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়নের পাশাপাশি পরিবার, বিদ্যালয় ও নিজ নিজ এলাকার মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারা।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতার ওপর প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান এমন সময়ে এলো, যখন বর্ষাকালে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিকে কেন্দ্র করে মশার বংশবিস্তারের ঝুঁকি বাড়ে। তাই বাড়ি, বিদ্যালয় ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।



