রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ডেঙ্গুর সর্বোচ্চ সংক্রমণ সামনে, সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম

ডেঙ্গুর সর্বোচ্চ সংক্রমণ সামনে, সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

ফাইল ছবি

চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে অথবা আগামী অক্টোবরের শুরুতে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। একই সঙ্গে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির আগেই সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার সকালে ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এবং সামনে সংক্রমণের চাপ আরও বাড়তে পারে। এ কারণে রোগীর সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণে রাখাকে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি শুরু হবে। কর্মসূচির আওতায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস এবং নিয়মিত তদারকির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর পরিদর্শন করে এডিস মশার লার্ভা শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। রোগীর চাপ বেড়ে গেলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠে একটি অস্থায়ী হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য সারা দেশে প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনা মূল্যে করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মোট শয্যার ১০ শতাংশে ডেঙ্গু রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু ও সংশ্লিষ্ট পরীক্ষায় রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিতে বলা হয়েছে। ডেঙ্গু চিকিৎসার সমন্বিত নির্দেশিকাও হালনাগাদ করা হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিতে সরকারি স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং শিক্ষার্থীদের যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শয্যা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোগী ও আশপাশের ওয়ার্ডে থাকা ব্যক্তিদের মশারি ব্যবহারের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কোথাও ঘাটতি দেখা দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে রোগীর চাপ বাড়লেও চিকিৎসাসেবায় যেন কোনো ধরনের সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।

এদিকে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির সাম্প্রতিক চিত্র উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ১৩০ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায়ই ডেঙ্গুতে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরের এক দিনে সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৭১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছরের মৃত্যুর হিসাবেও সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত বৃদ্ধি দেখা গেছে। আগস্ট মাসে ডেঙ্গুতে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়। আর সেপ্টেম্বরের প্রথম আট দিনেই মৃত্যু হয়েছে ৩৩ জনের। ফলে সামনে সংক্রমণ আরও বাড়ার আশঙ্কার মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং ব্যক্তিগত সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে বাড়িঘর ও আশপাশের জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার পাশাপাশি জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!