প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ০৯:২২ এএম
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা ও চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজকে আধুনিক ও নিরাপদ অবকাঠামোয় গড়ে তুলতে বড় ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। অতিরিক্ত রোগীর চাপ, পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এবং শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির আধুনিকায়ন ও পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প।
আগামী বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে চলতি বছরই এর বাস্তবায়ন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে একটি আধুনিক শিক্ষাভবন, শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ছাত্রাবাস এবং শিক্ষকদের আবাসিক ভবন নির্মাণের কথা রয়েছে। তিনটি ভূগর্ভস্থ তলাসহ ১৫ তলা শিক্ষাভবনে থাকবে চারটি বক্তৃতাকক্ষ ও দুটি পরীক্ষা কক্ষ। ৮০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের জন্য নির্মাণ করা হবে ১৫ তলা ছাত্রাবাস। পাশাপাশি শিক্ষকদের আবাসন সংকট দূর করতে ১৫ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্যাম্পাসে ৮০০ মুসল্লির জন্য চারতলা মসজিদ, আধুনিক অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজায়ন এবং বিদ্যুৎ ও পানি সাশ্রয়ের নানা ব্যবস্থা রাখা হবে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে। ডা. ফজলে রাব্বি হল ও আশপাশের অভ্যন্তরীণ সড়কের উন্নয়নও প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে।
বর্তমানে ২ হাজার ৬০০ শয্যার বিপরীতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে বিদ্যমান অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থায়ও সংকট রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও রোগীসেবার অবকাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসবে। শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও আধুনিক পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন এবং রোগীরাও উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।



