প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০৩:১৩ পিএম
রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসাসেবাসহ হাসপাতালের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ শোনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কঠোর বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার দুপুরে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই মুগদা জেনারেল হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনের শুরুতে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। বিশেষ করে ডেঙ্গু ইউনিটের চিকিৎসাব্যবস্থা, রোগীদের সার্বিক অবস্থা এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় হাসপাতালের কয়েকটি কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন মন্ত্রী। তারা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। কয়েকজন রোগী জানান, প্রয়োজনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের অনেক সময় হাসপাতালে পাওয়া যায় না। এতে জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসা পেতে রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এ ছাড়া নার্সদের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ করেন কয়েকজন রোগীর স্বজন। দায়িত্বে অবহেলা এবং রোগীদের সঙ্গে যথাযথ আচরণ না করার বিষয়েও অভিযোগ ওঠে। রোগী ও স্বজনদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
অভিযোগের পর তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। যারা দায়িত্বে অবহেলা করছেন কিংবা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালের সেবার মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।
এ সময় হাসপাতালের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হয় আমি থাকব, না হয় হাসপাতালে অনিয়ম-দুর্নীতি থাকবে।’ তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পরিদর্শনের সময় দেশের চলমান স্বাস্থ্য কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, হাম প্রতিরোধে ইতোমধ্যে চার কোটি টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের হাম থেকে সুরক্ষিত রাখার উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া দেশব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরুর কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসব্যাপী এ অভিযান পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষার সঙ্গে পরিচ্ছন্ন পরিবেশের বিষয়টি সরাসরি জড়িত। তাই হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসাধারণের মধ্যেও সচেতনতা বাড়াতে হবে।
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, দায়িত্বে অবহেলা বন্ধ এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আরও সক্রিয় হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মুগদা হাসপাতালের পরিদর্শনকে তিনি নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে দেখলেও অনিয়মের অভিযোগে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।



