রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঘাটাইল হাসপাতালের ওষুধকাণ্ড: মূল হোতাদের আড়াল করতে চালকের বিরুদ্ধে মামলা, বিক্ষোভ

রাহাত শরীফ

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

ঘাটাইল হাসপাতালের ওষুধকাণ্ড: মূল হোতাদের আড়াল করতে চালকের বিরুদ্ধে মামলা, বিক্ষোভ

ছবি: প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধকাণ্ডে জড়িত মূল হোতাদের আড়াল করতেই শুধু ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে চুরির মামলা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

শনিবার (২৯ আগস্ট) ঘাটাইল কলেজ মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে ট্রাকচালকের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভকারীরা ঘাটাইল থানায় যান।

বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়ে বক্তারা ওষুধকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সালাম খান আওয়াল বলেন, “এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত একজন সদস্যও যেন কোনোভাবে পার পেয়ে না যান।”

টাঙ্গাইল জেলা এনসিপির সদস্যসচিব মাসুদুর রহমান রাসেল বলেন, “হাসপাতালের স্টোরকিপার সেলিম হোসেনের স্পষ্ট বক্তব্য—তাকে ওষুধগুলো সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন আবাসিক চিকিৎসক। তাহলে আবাসিক চিকিৎসককে কে নির্দেশ দিয়েছেন? অবশ্যই হাসপাতালের প্রধান। অথর্ব সিভিল সার্জন ঘটনার চার দিন পার হলেও কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেননি।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু চালকের ওপর দোষ চাপিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা আমরা কখনোই মেনে নেব না। যতক্ষণ পর্যন্ত এর সমাধান না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”

উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ সাগর বলেন, “ওষুধ কেলেঙ্কারির ঘটনা সারা দেশে ভাইরাল হয়েছে। হাসপাতালে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হবে।”

এর আগে ওষুধকাণ্ডে শুধু ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে মামলা করা এবং হাসপাতালের অন্য সংশ্লিষ্টদের আসামি না করার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও হাসপাতাল ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন ঘাটাইল মিনি ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকেরা।

এদিকে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোকছেদুর রহমান জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করা চুরির মামলায় মিনি ট্রাকচালক আজমত আলীকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি সেখানে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে আজমত ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনের নাম বলেছেন। আদালতে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ওসি আরও জানান, তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে ওষুধকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাত ১১টার দিকে একটি মিনি ট্রাকে করে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নেওয়া হচ্ছিল। ট্রাকটি ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী এলাকার যমুনা নদীর ঘাটে পৌঁছালে স্থানীয়রা সেটি আটক করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিক্ষোভ শুরু হয়।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!