প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০২:০৮ পিএম
টাঙ্গাইলের বাসাইলে হানিফ খান (৩৭) নামে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এক আনসার সদস্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের বিলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। পরে পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে।
নিহত হানিফ খান হাবলা উত্তরপাড়া এলাকার মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা বক্তার আলী খানের ছেলে। স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে বিলপাড়া বাজার থেকে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন তিনি। পথে একদল দুর্বৃত্ত তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
পরে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় হানিফকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী উপপরিদর্শক মো. আতিকুর রহমানও গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
ঘটনার পর বাসাইল থানায় নিহতের স্ত্রী মনিরা সুলতানা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে কী কারণে হানিফকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় পর্যায়ে পূর্ববিরোধের বিষয়টি আলোচনায় এলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এদিকে আকস্মিক এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাতের বেলায় বাড়ি ফেরার পথে একজনকে এভাবে হামলার শিকার হতে হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নিহতের পরিবার হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
হানিফের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশের তদন্তে হামলাকারীদের ব্যবহৃত অস্ত্র, হামলার ধরন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং হত্যার পেছনের কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের শনাক্তের মাধ্যমে ঘটনার পুরো রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।



