রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

স্ত্রীকে সাপে কাটল, সাপ মেরে ব্যাগে ভরে হাসপাতালে গেলেন স্বামী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম

স্ত্রীকে সাপে কাটল, সাপ মেরে ব্যাগে ভরে হাসপাতালে গেলেন স্বামী

ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর পরশুরামে বিষধর গোখরা সাপের দংশনের শিকার হয়েছেন ৭০ বছর বয়সী এক নারী। স্ত্রীকে সাপে দংশনের পর আতঙ্কিত না হয়ে সাপটিকে খুঁজে বের করেন তার স্বামী। পরে সাপটি মেরে একটি ব্যাগে ভরে স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। সেখানে সাপটি দেখে চিকিৎসকেরা সেটি বিষধর গোখরা বলে শনাক্ত করেন। বর্তমানে ওই নারী চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এখন পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থার বড় কোনো অবনতি হয়নি বলে জানা গেছে।

রোববার দুপুরের দিকে পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের পূর্ব সাহেবনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সাপে দংশনের শিকার নারী ছকিনা বেগম ওই এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার সময় তিনি বাড়ির বাইরে প্রয়োজনীয় কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ একটি কালো রঙের সাপ এসে তাকে দংশন করে দ্রুত সরে যায়।

ঘটনার সময় ছকিনার স্বামী জাফর আহমদ কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন। স্ত্রীকে সাপে দংশন করতে দেখে তিনি দ্রুত সাপটিকে খুঁজতে শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর সাপটির সন্ধান পান তিনি। পরে সেটিকে পিটিয়ে মেরে একটি ব্যাগে ভরে ফেলেন। এরপর দেরি না করে স্ত্রীকে নিয়ে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। একই সঙ্গে সাপটিকেও সঙ্গে নিয়ে যান, যাতে চিকিৎসকেরা সেটি দেখে দংশনকারী সাপের ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন।

হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা সাপটি পরীক্ষা করে বিষধর গোখরা বলে শনাক্ত করেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ছকিনা বেগমকে হাসপাতালে রেখে পর্যবেক্ষণ শুরু করা হয়। চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থা ও বিষক্রিয়ার সম্ভাব্য লক্ষণগুলো পর্যবেক্ষণ করছেন।

চিকিৎসকদের মতে, বিষধর সাপের দংশনের পর দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে দংশনের পরপরই বিষক্রিয়ার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা নাও দিতে পারে। তাই সাপে কাটার ঘটনা ঘটলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক ও অন্যান্য চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এদিকে একই উপজেলায় কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও গোখরা সাপের দংশনের ঘটনা ঘটায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে ১ সেপ্টেম্বর বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশুকে বিষধর গোখরা সাপে দংশন করার ঘটনা ঘটে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে একই উপজেলায় আবারও গোখরার দংশনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে সাপের উপদ্রব নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

বর্ষাকাল ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে গ্রামাঞ্চলে সাপের চলাচল বাড়তে পারে। বিশেষ করে বাড়ির আশপাশে জমে থাকা আবর্জনা, ঝোপঝাড়, কাঠের স্তূপ কিংবা দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করা জায়গায় সাপ আশ্রয় নিতে পারে। তাই এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং রাতে বাইরে বের হওয়ার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সাপে দংশনের পর আক্রান্ত ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁক, কবিরাজি চিকিৎসা বা কোনো ধরনের কুসংস্কারের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তিকে অযথা দৌড়ঝাঁপ না করিয়ে শান্ত ও স্থির রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দংশনকারী সাপটি নিরাপদে শনাক্ত করা সম্ভব হলে চিকিৎসকদের তথ্য দিতে সুবিধা হয়। তবে সাপ ধরতে বা কাছে যেতে গিয়ে নতুন করে ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।

পরশুরামের এই ঘটনায় ছকিনা বেগম দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আসায় বর্তমানে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখছেন এবং বিষক্রিয়ার কোনো লক্ষণ দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!