প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ১১:১৯ এএম
ফেনীর মুহুরীগঞ্জ এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস ও কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে মুহুরীগঞ্জের দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামমুখী মহাসড়কের একটি অংশে একটি কাভার্ড ভ্যান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে সড়কে দাঁড়িয়ে ছিল। পরে সেটিকে একটি দীর্ঘ যানবাহনের সঙ্গে বেঁধে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছিল। এ সময় পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ড ভ্যানটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়।
সংঘর্ষের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে কাভার্ড ভ্যানের চালক ও সহকারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। একই দুর্ঘটনায় বাসটির চালকও গুরুতরভাবে আহত হয়ে পরে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করেন।
দুর্ঘটনায় আহত একজনকে দ্রুত উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
ফাজিলপুর মহাসড়ক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত তিনজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনটি যানবাহন জব্দ করেছে। কীভাবে দ্রুতগতির বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ড ভ্যানের পেছনে আঘাত করল, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মহাসড়কে বিকল যানবাহন অবস্থান করায় এবং সেটি সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলার সময় পেছন থেকে আসা বাসের ধাক্কায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়কপথ হওয়ায় এখানে বিকল যানবাহন দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং দুর্ঘটনাকবলিত বা দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনের ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুহুরীগঞ্জের এই দুর্ঘটনা আবারও ব্যস্ত মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের সময় সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।



