প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম
ফেনীর পরশুরামে মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পরিদর্শনকালে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও দেশের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের উচিত বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখা। একই সঙ্গে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিষয়ে সরকার আরও সতর্ক থাকবে।
মঙ্গলবার দুপুরে পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর বাঁধ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়া হবে না। সম্ভাব্য আগ্রাসন বা অন্য কোনো নেতিবাচক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও জনগণকে সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ সময় দুর্নীতি প্রতিরোধেও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন পানিসম্পদমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের চাপ, অনিয়ম কিংবা প্রকল্পের ক্ষতি—কোনোটিই যাতে প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা জানান তিনি।
মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ফেনীসহ বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও বন্যাজনিত দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই। তবে দ্বিতীয় পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
প্রায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন ও নতুন পানি প্রবেশমুখ নির্মাণের কাজও করা হবে।
মন্ত্রী জানান, আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী ফেনী সফরে এসে প্রকল্পটির কাজের উদ্বোধন করতে পারেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।



