প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০১:২৫ পিএম
ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে মামলার ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ১০ আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আলোচিত মামলাটির রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির মধ্যে রয়েছেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা। তবে হাইকোর্টের রায়ে নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের সাজায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় নতুন গুরুত্বপূর্ণ ধাপ যুক্ত হলো।
মামলার শুনানিতে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।
এর আগে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন। ওই রায়ে মামলার ১৬ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পক্ষ থেকেও আপিল করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও শুনানি শেষে সোমবার হাইকোর্ট এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা তার কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে তার সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠে। পরে এ ঘটনায় নুসরাত থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হলেও তিনি তা প্রত্যাহার করেননি।
এরপর ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ এপ্রিল নুসরাত জাহান রাফির মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছিল। দ্রুত বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সোচ্চার হন।
হাইকোর্টের আজকের রায়ের মাধ্যমে মামলার সাজায় বড় পরিবর্তন এলেও এর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের সুযোগ রয়েছে। ফলে নুসরাত হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখানেই পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না।
নুসরাতের ওপর হামলা ও পরবর্তী মৃত্যুর ঘটনা বাংলাদেশের নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হয়ে রয়েছে। প্রায় সাত বছর পর হাইকোর্টের রায়ে মামলার আসামিদের সাজায় পরিবর্তন আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।



