প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
থাইল্যান্ডের চোনবুরি প্রদেশে একটি কিন্ডারগার্টেনে নিজের স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে নং প্লা লাই পৌর কিন্ডারগার্টেনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নারী ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরই শিক্ষক ছিলেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখান থেকে চলে গিয়ে নিজের বাড়িতে অবস্থান নেন। পরে পুলিশ তাঁর বাড়ি ঘিরে আত্মসমর্পণের জন্য আলোচনা শুরু করে।
ঘটনার সময় কিন্ডারগার্টেনে ৪৪ শিশু, তিনজন শিক্ষক এবং আরও তিনজন কর্মী ছিলেন। গুলির ঘটনা শ্রেণিকক্ষের বাইরে ঘটায় কোনো শিশুই গুলিতে আহত হয়নি। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা দ্রুত শিশুদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। পরে অভিভাবকদের খবর দিয়ে শিশুদের বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব শিশুই নিরাপদ রয়েছে।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই এলাকারই একজন পুলিশ কর্মকর্তা। ঘটনার আগে তিনি কিন্ডারগার্টেনে এসে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। কিছু সময় পর গুলির শব্দ শোনা যায়। এরপর তিনি ঘটনাস্থল ছেড়ে গাড়িতে করে নিজের বাড়ির দিকে চলে যান। পুলিশ পরে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে বাড়িটি ঘিরে ফেলে।
চোনবুরি প্রদেশের গভর্নর নারিস নিরামাইওং ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি কিন্ডারগার্টেনটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনায় আতঙ্কিত শিশু, শিক্ষক ও কর্মীদের মানসিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
হামলার পেছনে কী কারণ ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে হত্যার কারণ ও ঘটনার পুরো পরিস্থিতি জানার চেষ্টা চলছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা আত্মসমর্পণ করেছেন কি না, সে বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি; তখনও তাঁর সঙ্গে আত্মসমর্পণ নিয়ে আলোচনা চলছিল।
ঘটনার পর আবারও থাইল্যান্ডে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়েও একাধিক গুলির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত মাসে এক কিশোরের গুলিতে কয়েকজন নিহত হওয়ার ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এসব ঘটনার পর দেশটিতে আগ্নেয়াস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার দাবি জোরালো হয়েছে।
এর আগে ২০২২ সালে উত্তর থাইল্যান্ডের একটি শিশুশিক্ষাকেন্দ্রে সাবেক এক পুলিশ সদস্যের ভয়াবহ হামলায় বহু শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক নিহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পরও দেশটিতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা হয়েছে।
নতুন এই ঘটনায় অবশ্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো, কিন্ডারগার্টেনে থাকা কোনো শিশুই গুলিতে আহত হয়নি। তবে শিক্ষিকা হত্যার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির শিশু, শিক্ষক ও কর্মীদের মধ্যে গভীর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের মানসিক সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে।



