রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

থাইল্যান্ডে মাতাল হয়ে দুই মার্কিন সেনার মারামারি, রণতরিতে আটকে রাখার নির্দেশ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম

থাইল্যান্ডে মাতাল হয়ে দুই মার্কিন সেনার মারামারি, রণতরিতে আটকে রাখার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডে অবকাশযাপনে গিয়ে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ার পর দুই মার্কিন সেনা সদস্যকে তাদের রণতরিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে থাইল্যান্ডে অবস্থানের বাকি সময় তাদের জাহাজের বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাতাল অবস্থায় মারামারির ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ হস্তক্ষেপ করার পর তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় পর্যটন নগরী পাতায়ায়। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে শহরের একটি বিনোদনকেন্দ্রের কাছাকাছি দুই মার্কিন সেনার মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। তাদের আচরণে আশপাশে উত্তেজনা তৈরি হলে স্থানীয় এক ব্যক্তি জরুরি নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে জানা যায়, দুই সেনা সদস্যই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং নিজেদের মধ্যে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। পুলিশ ঘটনাটিকে বড় ধরনের সহিংসতা হিসেবে দেখেনি। তবে পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপের দিকে না যায়, সে জন্য তাদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

পরে দুই সেনাকে যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডের যৌথ সমন্বয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক বিষয়গুলো দেখার পর তাদের বহনকারী রণতরিতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সিদ্ধান্ত হয়, থাইল্যান্ডে রণতরিটির নির্ধারিত পাঁচ দিনের অবস্থান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা জাহাজেই থাকবেন। ফলে অন্য সেনাদের মতো তাদের আর শহরে অবকাশ কাটানোর সুযোগ থাকছে না।

থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর আগে মার্কিন রণতরিটি দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করেছিল। প্রায় ২৮৬ দিন ধরে চলা এই দীর্ঘ সামরিক দায়িত্বের পর রণতরিটি ২ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে পৌঁছায়। বন্দরটি রাজধানী ব্যাংককের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এবং পাতায়া শহরের কাছাকাছি অবস্থিত।

রণতরিটিতে প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্য রয়েছেন। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের পর তাদের বিশ্রাম ও অবকাশের সুযোগ দিতেই থাইল্যান্ডে কয়েক দিনের বিরতির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দীর্ঘ সামরিক দায়িত্বের কারণে এই সফর মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিশ্রামের সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।

তবে রণতরিটির দীর্ঘ দায়িত্ব নিয়ে এরই মধ্যে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে জাহাজে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি এবং সদস্যদের মানসিক চাপ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কয়েকজন সেনা সদস্যের পরিবার থেকেও দীর্ঘ দায়িত্বের কারণে তাদের স্বজনদের মানসিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ অবশ্য ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। তাদের দাবি, রণতরিটিতে দায়িত্ব পালনের পরিস্থিতিকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। দীর্ঘ সামরিক অভিযানের মধ্যেও সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বলে তারা জানিয়েছে।

এর মধ্যেই পাতায়ায় দুই মার্কিন সেনার মারামারির ঘটনা সামনে এলো। স্থানীয় পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ছিল ছোটখাটো এবং এতে থাইল্যান্ডের কোনো আইন ভঙ্গ হয়েছে কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের অভিযোগ ওঠেনি। তবে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মার্কিন নৌবাহিনী ওই দুই সদস্যকে জাহাজে ফিরিয়ে নিয়ে বাকি সফর সেখানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

দীর্ঘ ২৮৬ দিনের সমুদ্রযাত্রার পর থাইল্যান্ডে পৌঁছে যেখানে অধিকাংশ সেনা বিশ্রাম ও অবকাশ কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন, সেখানে ওই দুই সদস্যের জন্য সফরটি শেষ পর্যন্ত ভিন্ন অভিজ্ঞতায় পরিণত হলো। সামান্য একটি মারামালির ঘটনাই তাদের পুরো অবকাশের পরিকল্পনা বদলে দিয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!