রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

থাইল্যান্ডে এক রাতে অর্ধ-শতাধিক স্থানে আগুন হামলা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম

থাইল্যান্ডে এক রাতে অর্ধ-শতাধিক স্থানে আগুন হামলা

সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের সংঘাতপ্রবণ দক্ষিণাঞ্চলের তিন প্রদেশে এক রাতেই ৫১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় বোমা বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ, যানবাহন ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে দুই বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) স্থানীয় সময় রাত ৮টার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নারাথিওয়াত, ইয়ালা ও পাত্তানি প্রদেশে সমন্বিতভাবে এসব হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে নারাথিওয়াতে ২২টি, ইয়ালায় ১৮টি এবং পাত্তানিতে ১১টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

হামলাকারীরা বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা, যানবাহন, মুঠোফোনের যোগাযোগ টাওয়ার, সড়ক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে জানা গেছে। কোথাও কোথাও বিস্ফোরক ব্যবহার এবং রাস্তায় টায়ারে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। একটি স্থানীয় সরকারি ভবন ও একটি দোকানেও আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নারাথিওয়াতের একটি এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই নারী আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হামলার পর প্রদেশটির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাতে কারফিউ জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সহিংসতার পর নিরাপত্তা বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ঘিরে তল্লাশি চালাচ্ছে এবং ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা যানবাহন দেখলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।

রোববারও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি স্থানে নতুন বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রেলপথের একটি অংশে বিস্ফোরণের চিহ্ন পাওয়ায় সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলের নারাথিওয়াত, ইয়ালা ও পাত্তানিতে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাত চলছে। ২০০৪ সাল থেকে চলমান এ সহিংসতায় সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা শুরু হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভিন্ন পক্ষের মতবিরোধের কারণে সেই প্রক্রিয়া বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

সর্বশেষ হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে একযোগে এতগুলো স্থানে হামলার ঘটনায় দক্ষিণাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!