প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী নাইম হাওলাদার নিহত হওয়ার মামলা এবং তারেক চৌকিদারকে হত্যাচেষ্টার মামলায় পটুয়াখালী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে পৃথক দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখান।
আদালতের আদেশের পর আ স ম ফিরোজকে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে কারাবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর নাইম হাওলাদার হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক নাজিম উদ্দিন ফকির এবং তারেক চৌকিদারকে হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া পৃথক আবেদন করে আ স ম ফিরোজকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতি চান। সেদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য বুধবার দিন নির্ধারণ করেন।
নির্ধারিত দিনে কারাগার থেকে আ স ম ফিরোজকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি মামলায় তিনি দুই বছরের সাজা ভোগ করেছেন এবং জামিন পাওয়ার পর আবার নতুন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আদালতে নিজের বক্তব্যে আ স ম ফিরোজ তাঁর বয়স ৭৮ বছর উল্লেখ করে বলেন, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ। তিনি নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আটবারের সংসদ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেন, তিনি কোনো অন্যায় বা অপরাধ করেননি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর চিকিৎসা প্রয়োজন বলেও আদালতকে জানান তিনি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ তাঁকে দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী কামাল হোসেন বিশ্বাস ও শফিকুল ইসলাম স্বপন এর বিরোধিতা করে তাঁকে গ্রেপ্তার না দেখানোর আবেদন জানান। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদন মঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী থানার উত্তর কুতুবখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিলেন নাইম হাওলাদার। ওই সময় তাঁর বাম কাঁধের সামনের অংশে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরে এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়।
অন্য মামলার নথিতে বলা হয়েছে, একই দিন যাত্রাবাড়ী এলাকায় তারেক চৌকিদারের রুমমেট শিহাব ছাদে গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে গেলে তারেকও গুলিবিদ্ধ হন। পরে ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ তারেক চৌকিদার বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।
আ স ম ফিরোজকে ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তাঁর আইনজীবীদের দাবি, বিভিন্ন মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি কারামুক্ত হওয়ার পর্যায়ে ছিলেন। এর মধ্যেই নতুন দুই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অভিযোগ করেন, আ স ম ফিরোজ যাতে কারাগার থেকে মুক্তি না পান, সে কারণেই তাঁকে একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আদালতের আদেশ অনুযায়ী মামলাগুলোর তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলবে।
নাইম হত্যা ও তারেক চৌকিদারকে হত্যাচেষ্টা—দুই মামলাতেই আ স ম ফিরোজের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তাধীন। আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম ও তদন্তে এসব ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসবে।



