রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রতারণার মামলায় এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশার জামিন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০১:১১ পিএম

প্রতারণার মামলায় এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশার জামিন

ফাইল ছবি

রাজধানীর গুলশান থানায় করা প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

আদালতে বিদিশার পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী মো. মাসুদ মিয়া। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির তার জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছিলেন। পরে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে বিদিশা সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ের একটি প্রতারণার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার নথিতে উল্লেখ করা অভিযোগ অনুযায়ী, মোশাররফ হোসেন রাজধানীর বারিধারা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য খোঁজ করছিলেন। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর বিদিশা ২০০১ সালের ১ জুলাই তাকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং সেটি বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ওই ফ্ল্যাট ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়ে দুজনের মধ্যে চুক্তি হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চুক্তির পর ১০ জুলাই মোশাররফ হোসেনকে বনানীর রজনীগন্ধা কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে বিদিশার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার একটি পে-অর্ডার দিতে বলা হয়। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন। পরবর্তী সময়ে ফ্ল্যাটটি বিক্রির বিষয়ে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে ফ্ল্যাটটির নিবন্ধন করে দেওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাটটি ক্রেতার কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়।

তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী। পরে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মোশাররফ হোসেনকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে চেকটি ব্যাংকে জমা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা প্রত্যাখ্যাত হয়। এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।

দীর্ঘদিন ধরে চলা ওই মামলায় বিদিশার বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের রায় হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। সেই আবেদনের শুনানি শেষে রোববার উচ্চ আদালত তাকে জামিন দেন।

তবে আদালতের এই জামিনের ফলে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া বা অন্যান্য আইনি কার্যক্রম শেষ হয়ে যায়নি। মামলাটি সংশ্লিষ্ট আদালতে আইন অনুযায়ী চলমান থাকবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!