প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
রাজধানীর গুলশান এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মিছিল করার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি পাঁচটি ককটেল উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে গুলশান-১ এলাকার ভোলা মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দুপুরের আগে ওই এলাকায় কয়েকশ নেতা-কর্মী জড়ো হয়ে মিছিল বের করার চেষ্টা করেন। তাদের হাতে বিভিন্ন ধরনের স্লোগানসংবলিত প্রচারপত্র ও দলীয় কর্মসূচির উপস্থিতি দেখা যায় বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের মিছিল থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় মিছিলকারীদের পক্ষ থেকে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে পুলিশের দাবি। বিস্ফোরণের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। পরে মিছিলকারীরা বিভিন্ন দিকে সরে যান বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাউদ হোসেন জানান, গুলশান-১-এর ভোলা মসজিদের সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার উদ্যোগ নিলে সেখানে দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ককটেলগুলো কীভাবে সেখানে আনা হয়েছিল এবং বিস্ফোরণের ঘটনায় কারা জড়িত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় গুলশান-১ এলাকায় হঠাৎ করে মানুষের জটলা তৈরি হয়। মিছিলকারীরা স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে আশপাশের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দৃশ্যেও ওই এলাকায় মানুষের মিছিল এবং পুলিশের তৎপরতা দেখা গেছে। তবে ছড়িয়ে পড়া সব দৃশ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় গুলশান এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তদন্তের পর নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ঝটিকা মিছিল ও কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এরই মধ্যে গুলশানের এ ঘটনায় ককটেল উদ্ধারের বিষয়টি নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।



