রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রাজধানীতে উল্টো পথে মন্ত্রীর গাড়ি, মামলা ট্রাফিক পুলিশের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম

রাজধানীতে উল্টো পথে মন্ত্রীর গাড়ি, মামলা ট্রাফিক পুলিশের

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে উল্টো পথে চলার অভিযোগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের পতাকাবাহী গাড়ির বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে ট্রাফিক পুলিশ। এ ঘটনায় গাড়িটির চালককে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৮ মিনিটের দিকে রাজধানীর সার্কিট হাউজ সড়কে ঘটনাটি ঘটে। ট্রাফিক পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, মন্ত্রীর পতাকাবাহী গাড়িটি সচিবালয়ের দিকে যাওয়ার সময় সড়কের নির্ধারিত চলাচলের বিপরীত দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক সদস্যরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে গাড়িটিকে থামান।

পুলিশ গাড়িটি থামানোর পর চালককে জানায়, নির্ধারিত দিকের বিপরীতে গাড়ি চালানো সড়ক চলাচলের আইন লঙ্ঘন। পরে গাড়িটির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। প্রতিটি মামলায় ৩ হাজার টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িটির চালকের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগেও মামলা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গাড়িটি একটি পতাকাবাহী যান হিসেবে চলাচল করছিল। মন্ত্রীর গাড়ি যখন উল্টো পথে যাচ্ছিল, তখন পাশের সড়ক দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরও সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর রাজধানীতে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একজন মন্ত্রীর ব্যবহৃত পতাকাবাহী গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইনে মামলা হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য। ব্যক্তির পদ বা পরিচয় বিবেচনায় নিয়ে আইন প্রয়োগে ভিন্নতা থাকার সুযোগ নেই।

উল্টো পথে গাড়ি চালানো রাজধানীর সড়কে প্রায়ই দেখা যায়। যানজট এড়ানো, দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো কিংবা সাময়িক সুবিধা নেওয়ার জন্য অনেক চালক নির্ধারিত পথের বিপরীতে গাড়ি চালিয়ে থাকেন। এতে সামনের দিক থেকে আসা যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। একই সঙ্গে পথচারী ও অন্য চালকদের জন্যও ঝুঁকি বাড়ে।

সার্কিট হাউজ সড়ক রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। এই এলাকার আশপাশে সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় দিনের ব্যস্ত সময়ে যানবাহনের চাপও থাকে। এমন সড়কে কোনো গাড়ি উল্টো পথে চললে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।

ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা মনে করেন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য নিয়ম ভঙ্গের ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সবাইকে একই মানদণ্ডের আওতায় আনা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নিয়ম মেনে চলার প্রবণতা বাড়বে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা মূলত গাড়ির চালকের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। এ ঘটনায় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। গাড়িটি উল্টো পথে চলার সময় মন্ত্রী নিজে গাড়িতে ছিলেন বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উল্টো পথে গাড়ি চালানোর বিষয়টি আইনবহির্ভূত হওয়ায় ঘটনাস্থলেই গাড়িটি থামানো হয়। এরপর প্রচলিত নিয়ম অনুসারে মামলা ও জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় সড়কে আইন মানার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ব্যবহৃত গাড়িও যদি সাধারণ যানবাহনের মতো ট্রাফিক আইন মেনে চলে, তাহলে তা সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে রাজধানীর যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে নিয়মিত ও নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

মন্ত্রীর পতাকাবাহী গাড়ির বিরুদ্ধে এই মামলার ঘটনা তাই শুধু ৬ হাজার টাকা জরিমানা বা দুটি মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং সড়ক ব্যবস্থাপনায় আইন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং অন্যদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে এমন আচরণ থেকে বিরত থাকার বিষয়টি এ ঘটনার মাধ্যমে আবারও গুরুত্ব পেয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!