প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও সরকারি কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগের বিস্তারিত যাচাই করতে ইতোমধ্যে চার সদস্যের একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম।
অনুসন্ধানের আওতায় থাকা অপর তিনজন হলেন—যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।
দুদক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আসিফ মাহমুদ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময় বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি এবং সরকারি পণ্য ও সেবা কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এসব কার্যক্রমে একটি প্রভাবশালী চক্র বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূত সুবিধা নেওয়া হয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য যাচাইয়ের পরই বিস্তারিত অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এখন অনুসন্ধান দল অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ, সরকারি অর্থ ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা, নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ার তথ্য যাচাই এবং সরকারি কেনাকাটার বিভিন্ন ধাপ পরীক্ষা করতে পারে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা ও আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা হতে পারে।
এর আগে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালের কর্মকাণ্ড ঘিরে আরও কিছু অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁর সাবেক সহকারী একান্ত সচিব মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহার, তদবির এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান হয়েছিল। তবে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ওই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুসন্ধানটি শেষ করার কথা জানা যায়।
এদিকে নতুন করে শুরু হওয়া অনুসন্ধানে মূলত যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনের সময়কার নিয়োগ, বদলি ও সরকারি কেনাকাটার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে অনুসন্ধান শুরু হওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়।
দুদকের অনুসন্ধানের ফলাফলেই অভিযোগগুলোর সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে।



