রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাবা ও প্রেমিকের সহায়তায় অশ্লীল ভিডিও তৈরি করতেন সুমাইয়া, তরুণী-প্রেমিক গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম

বাবা ও প্রেমিকের সহায়তায় অশ্লীল ভিডিও তৈরি করতেন সুমাইয়া, তরুণী-প্রেমিক গ্রেপ্তার

সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও তৈরি, প্রচার এবং অর্থের বিনিময়ে সরবরাহের অভিযোগে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। একই ঘটনায় তাঁর কথিত সহযোগী ও প্রেমিককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর মেয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার পরও তাকে বাধা না দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে তরুণীর বাবাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার তরুণীর নাম সুমাইয়া সাঈদ। তাঁর বয়স ২৫ বছর। গ্রেপ্তার অপর ব্যক্তির নাম খাজা সাকলাইন ফারুক। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও বাড্ডায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, গত ১০ আগস্ট নিয়মিত সাইবার নজরদারির সময় সুমাইয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন মাধ্যম ও বার্তা আদান-প্রদানের চ্যানেলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও বিক্রির প্রচারণার তথ্য নজরে আসে। এরপর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে এসব ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছে অর্থের বিনিময়ে সরবরাহ করা হতো। মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে টাকা নেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদি সদস্য হওয়ার সুবিধাও দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করার পর ১১ আগস্ট রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। সেখান থেকে সুমাইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরে সুমাইয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণীর সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, সুমাইয়া একা নয়, আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তাঁর বাবা মো. আবু সাঈদ মেয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত ছিলেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। মেয়েকে বাধা না দিয়ে তিনি এ কর্মকাণ্ড থেকে অর্থ গ্রহণ করতেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তাকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্তে এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং এর পেছনে কোনো বড় চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েক দিনের হেফাজত চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!