রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আরামিট সিমেন্টের বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০১:০০ পিএম

আরামিট সিমেন্টের বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ফাইল ছবি

চট্টগ্রামে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্ট পিএলসির বিরুদ্ধে সিমেন্টের কাঁচামাল কেনার নামে ভুয়া নথি তৈরি করে বিপুল অর্থ আত্মসাত ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন পৃথক তিনটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের নথি অনুযায়ী, প্রকৃত কোনো পণ্য কেনাবেচা না করেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ২৭টি লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় মোট ৫০০ কোটি টাকার মতো অর্থ আত্মসাৎ ও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন উপায়ে স্থানান্তরের অভিযোগ তদন্তের আওতায় এসেছে।

নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনটি পৃথক ঘটনায় আরামিট সিমেন্টের আবেদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের নামে অর্থ ছাড় করা হয়। এর মধ্যে একটি ঘটনায় প্রায় ৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা, দ্বিতীয় ঘটনায় ৪১ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং তৃতীয় ঘটনায় প্রায় ৪২ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিন ঘটনায় মোট ২৭টি লেনদেনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ঋণের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে আরামিট গোষ্ঠীর কয়েকজন কর্মচারীকে কাগজে-কলমে সরবরাহকারী হিসেবে দেখানো হয়। তাদের নামে ভুয়া আবেদন ও নথি তৈরি করে অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে পাঠানো, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে নগদে উত্তোলন, পূর্বের দায় পরিশোধ এবং বিদেশে পাঠানোর অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো অর্থ দিয়ে সম্পদ কেনা হয়েছে। একইভাবে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ স্থানান্তর করে সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। এসব অর্থের প্রকৃত উৎস ও গতিপথ আড়াল করতে একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে।

মামলার নথিতে প্রথম আসামি হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নাম রয়েছে। তাঁকে আরামিট গোষ্ঠীর মালিক এবং তৎকালীন ভূমিমন্ত্রী হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে ঋণ অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। নথিতে তাঁকে অর্থের চূড়ান্ত সুবিধাভোগী ও ঘটনার অন্যতম মূল ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আরামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমিলা জামান, প্রতিষ্ঠানের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম, ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুল আজিজসহ বিভিন্ন ব্যক্তি এবং একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তার নাম মামলার সম্ভাব্য আসামির তালিকায় রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ভুয়া সরবরাহকারী তৈরি, নথিতে স্বাক্ষর, অর্থ ছাড়ে সহযোগিতা এবং অর্থের গতিপথ আড়াল করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের নথিতে থাকা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হলে তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকেই অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!